কাপাসিয়ায় স্বামীর চুরির অভিযোগে বৃদ্ধাকে আটকে নির্যাতন

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৩, ২১:০১
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের ভুলেশ্বর গ্রামে স্বামী চুরি করেছে এমন অভিযোগে তার বৃদ্ধা স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে এনে ৩ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে এলাকাবাসী ঐ বৃদ্ধাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গত ১৫ আগস্ট রাতে ভুলেশ্বর গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিনের বাড়িতে চুরি হয়। চুরির অভিযোগ এনে মফিজ উদ্দিনের ছেলে মেজর (অব) মাহবুবুল হক রনি ১৭ আগস্ট একই এলাকার রাজ মিস্ত্রী জালাল উদ্দিন ও তার ছেলে মামুনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে থানায় চুরির মামলা করেন। পুলিশ আসামিদের কোর্টে চালান করে। অপরদিকে বাদী ১৭ আগস্ট রাজ মিস্ত্রির স্ত্রী সুবিনা আক্তার সালেমাকে (৫০) তার খালি বাড়ি থেকে ধরে এনে আনেন। এ ব্যাপারে সুবিনা জানান, তার কোন অপরাধ নেই চুরির ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তারপরও আমাকে লাঠি, লোহার রড দিয়ে নির্যাতন করেন তিনি। বিষয়টি পুলিশকে জানালে কাপাসিয়া থানার এস আই এবং চুরির মামলার আইও কুতুব উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গত সোমবার রাতে এলাকার লোকজন মফিজ উদ্দিনের বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় সুবিনাকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে মেজর (অব) মাহবুবুল হক রনি দাবি করেন, সুবিনার কাছ থেকে তথ্য উদ্ধারের জন্য তার হাতের আঙ্গুলে আঘাত করা হয়েছে। পরে তাকে স্থানীয় মেম্বার ও চৌকিদারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরে কেউ তাকে নির্যাতন করে থাকলে তার দায়িত্ব আমার নয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু লোক চোরের পক্ষ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনজিত কুমার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।