কয়েক মাসব্যাপী সেনাবাহিনীর শক্তির মহড়া এবং কূটনীতিকদের অনমনীয় আলাপ-আলোচনার পর অবশেষে ভারত এবং চীন সীমান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া ভারত-চীন কৌশলগত সংলাপে ‘সীমান্ত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি’র (বিডিসিএ) খসড়া নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। হিমালয় পর্বত সংশ্লিষ্ট চার হাজার কিলো-মিটারব্যাপী ভারত ও চীনের সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে এ চুক্তিটি করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, চলতি বছর প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের চীন সফরের সময় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। জানা গেছে, সফরটি চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবং সম্ভবত আগামী অক্টোবরে মনমোহনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরই তা হবে।
প্রসঙ্গত, সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ১৯৬২ সালের অক্টোবরে এই দু’টি দেশ সীমান্ত যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। বর্তমানে আলোচিত এই চুক্তিটি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হবে বলে উভয় দেশের পক্ষ থেকেই আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এই সীমান্ত চুক্তিটির লক্ষ্য হলো, ভারতীয় ও চীনা বাহিনীর মুখোমুখি হওয়া প্রতিরোধ করা যার ফলে সংঘাতের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঐ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিডিসিএ যথাসময়ে স্বাক্ষরিত হবে। কারণ, এটা সীমান্তে শান্তি ও স্থিতবস্থা বজায় রাখার জন্য দুই দেশের নেতৃত্বের দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ হবে এবং তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাবে।’ জানা গেছে, প্রকৃতপক্ষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই চুক্তিটি চীনের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছিল।
