গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংসের চেষ্টাকারীদের দেশের দায়িত্ব দেয়া যায় না

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০২
দেশের একমাত্র নোবেল পুরস্কার জয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গরিবদের প্রতি বর্তমান সরকারের মমত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, যারা গ্রামীণ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে চায়, তাদের হাতে কি আবারও দেশের দায়িত্ব তুলে দেয়া যায়? তবে তারা যত চেষ্টাই করুক, গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস করতে পারবে না। দেশের মানুষ তাদের গর্বের এই প্রতিষ্ঠানের গায়ে একটি আঁচড়ও লাগতে দেবে না। দুনিয়ার মানুষও এই ব্যাংকের পাশে এসে দাঁড়াবে। গতকাল মিরপুরের গ্রামীণ ব্যাংক ভবনে অবস্থিত ইউনূস সেন্টারে ভাষা সৈনিক ড. আব্দুল মতিনের (ভাষা মতিন) নেতৃত্বে ভাসানী অনুসারী পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাত্ করতে গেলে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস। তিনি আরো বলেন, ভাসানীর মতো মহান মানুষদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই আজীবন ভূমিহীন-গরিবদের জন্য কাজ করেছি। গরিব নারীদের সঙ্গে নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি, যে ব্যাংক নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। সারা পৃথিবীতে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে না, যারা নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। একমাত্র গ্রামীণ ব্যাংকই এমন গৌরবজনক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। অথচ আজ এই ব্যাংক ধ্বংসের চেষ্টা হচ্ছে। মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এখন যারা এই ব্যাংক ভাংতে চায়, গরিবদের প্রতি তাদের কোনো মমত্ববোধ নেই; কিন্তু দেশের মানুষ তাদের গর্বের এই প্রতিষ্ঠানটির গায়ে একটি আঁচড়ও লাগতে দেবে না। দুনিয়ার মানুষও এই ব্যাংকের পাশে এসে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের বুকে আগুন লাগুক, তা আমরা কেউই চাই না। গরিব মহিলাদের মালিকানাধীন এই ব্যাংকের মালিকানা অন্যকেউ কেড়ে নিতে পারবে না। শান্তিতে নোবেল জয়ী এই অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, ঘুষ দেয়া ছাড়া কোনো কাজ হয় না। যে মওলানা ভাসানী গোটা জীবনভর সবকিছু ত্যাগ করে এদেশের মানুষকে জাতীয়তাবোধ শিখিয়েছেন, আজ তাকেই ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে; কিন্তু দেশ এভাবে থাকবে না। দেশ একদিন ভাল হবেই, হতেই হবে। ড. ইউনূসের বক্তব্যের পর ভাসানী অনুসারী পরিষদের নেতৃবৃন্দ তাদের সর্বশক্তি দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের পাশে থাকার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, দেশের মানুষ যে কোনো পরিস্থিতিতে এই ব্যাংকের অস্তিত্ব রক্ষায় দেশের একমাত্র নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাশে থাকবে। ভাষা মতিন ছাড়াও এ সময় পরিষদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফোরকান উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব আমিনুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সভা এদিকে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামীণ ব্যাংক রক্ষা, দুর্জন প্রতিরোধ কেন্দ্র ও বাংলাদেশ প্রজন্ম একাডেমী যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন কলামিস্ট সাদেক খান, সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদিন, প্রাক্তন সৈনিক সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর (অব) এম এম মেহবুব, প্রজন্ম একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য আবু হেনা, প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেন, অধ্যাপক সালমা খান প্রমুখ। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, গরিবের মুষ্টি চালের বিনিময়ে গড়ে ওঠা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার; কিন্তু দেশের মানুষ সরকারের এই হীন প্রচেষ্টা সফল হতে দেবে না। নোবেল বিজয়ী এই ব্যাংক নিয়ে কোনো টানা-হেঁচড়া হলে দেশের মানুষ সরকারের অস্তিত্ব নিয়ে টানা-হেঁচড়া শুরু করবে। তারা আরো বলেন, অর্থমন্ত্রী দেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ এখন ত্যক্ত-বিরক্ত। শেয়ার বাজার, হলমার্ক, ডেসটিনি ও বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেংকারির মাধ্যমে অনেক চুরি ও লুটপাট করেছে। এখন গ্রামীণ ব্যাংকের ২৯ হাজার কোটি টাকা লুটের পাঁয়তারা করছে। আগামীতে আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না তা বুঝতে পেরেই এখন তারা এই টাকা লুটের জন্য তোড়জোড় চালাচ্ছে