জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। গত-কাল দিনভর প্রশাসনিক ভবনে ভিসিকে তার অফিসে অবরুদ্ধ করেন আন্দো-লনরত শিক্ষকরা। পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আব্দুল হামিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। ধর্মঘটের কারণে ভোর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি। ফলে ঢাকায় অবস্থানরত অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে আসতে পারেনি। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিলে রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিকসহ কোন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রবেশ করতে পারেনি। তালাবদ্ধ হয়ে থাকে প্রশাসনিক ভবন।
বেলা ১১টার দিকে ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক এমএ মতিন, প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক আফসার আহমদ, ট্রেজারার অধ্যাপক আবুল খায়ের, প্রক্টর অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা প্রবেশ করতে চাইলে শিক্ষকরা ভিসিকে উদ্দেশ্য করে মুখ ফিরিয়ে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেন। পরে ভিসি শিক্ষকদের পাশ কাটিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন।
এ সময় ভিসি সাংবাদিকদের বলেন, যারা হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আন্দোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে প্রশাসনিক ভবনের বাইরে থাকা দুই প্রো-ভিসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন শিক্ষকরা। এ সময় প্রো-ভিসি অধ্যাপক এমএ মতিন বলেন, ‘আজ ২১ অগাস্ট। আপনারা এদিনেও ধর্মঘট আহ্বান করেছেন।’
উত্তরে শিক্ষকরা বলেন, ‘আমাদের ২১ অগাস্ট শেখান, আপনার ভিসি জাসদ। আপনি কি জানেন, হু ইজ দ্য কিলার অব বঙ্গবন্ধু।’ সকালে শিক্ষকদের একটি বাস ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে শিক্ষকরা বাসটি থামিয়ে দেন। সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, কলা ও মানবিকী অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের অধিকাংশ বিভাগে কোন ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে ঘোষণা অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা ধর্মঘটের আওতামুক্ত ছিল।
দুই প্রো-ভিসি দুপুরে ভিসির অফিসে প্রবেশ করতে চাইলে বাধা প্রদান করেন শিক্ষকরা। এ সময় তারা ভিসির অফিস কক্ষে প্রবেশ না করে চলে যান। তখন শিক্ষকরা ভিসির অফিসকক্ষের দুই পাশের দরজায় বসে পড়েন।
এদিকে সাধারণ শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক আহমেদ রেজা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জানানো হয়, শিক্ষকদের এ আন্দোলন আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চ্যান্সেলর বরাবর আবেদন জানাচ্ছি।
বিকালে সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক হানিফ আলী জানান, ‘অবাঞ্ছিত ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবস্থান অব্যাহত থাকবে। আগামীকালও (বৃহস্পতিবার) সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করা হবে।’ অন্যদিকে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এ আন্দোলন বেআইনি। একইসাথে এটা ৭৩ এ্যাক্টের চাকরিবিধির লংঘন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা নিরসনে আচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার, ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম, মিডিয়াতে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, অযোগ্য প্রার্থীকে শিক্ষক নিয়োগের প্রচেষ্টাসহ ১২টি অভিযোগে সাড়ে তিন মাস ধরে ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছে ‘সাধারণ শিক্ষক ফোরাম’।
শোক র্যালি
গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে ক্যাম্পাসে শোক র্যালি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ। সকালে পরিবহন চত্বর থেকে র্যালী শুরু হয়ে অমর একুশের সামনে গিয়ে শেষ হয়। শাখা সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলসহ অন্যান্য নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। বেলা সাড়ে এগারটায় একই স্থান থেকে আরেকটি শোক র্যালি বের করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ।
