বি’বাড়িয়ায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গুদামের ৩শ’ কেজি গাঁজা উধাও!

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৩, ২১:২৯
জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গুদাম থেকে রহস্যজনকভাবে ৩ শ’ কেজি গাঁজা উধাও হয়ে গেছে। এর বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। মামলার আলামত হিসেবে গুদামে এ গাঁজা রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি ধরা পড়ার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গুদামটি সিলগালা করে চাবি নিয়ে চলে গেছে। গুদামটি সিলগালা করার এক মাস পর খবরটি জানাজানি হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুমিল্ল¬া অঞ্চলের উপ-পরিচালক একেএম শওকত ইসলাম ও সুপারিনটেন্ডেন্ট আজিজুল হক গত ২৩ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয় পরিদর্শনে আসেন। কর্মকর্তারা মামলার নথি অনুযায়ী অভিযানে উদ্ধার করা গাঁজার সন্ধান করেন। কিন্তু গুদামে মামলার আলামত গাঁজা দেখতে না পেয়ে ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন ভুঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপর কর্মকর্তারা গুদামটি তালা দিয়ে সিলগালা করে চাবি নিয়ে কুমিল্ল¬া চলে যান। সরেজমিনে বুধবার গিয়ে দেখা গেছে, গুদামের প্রধান ফটকে তালা ঝোলানো। এদিকে গত জুলাই মাসে গুদাম ঘরের পশ্চিম দিকের জানালা ভেঙ্গে চুরির ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, গত ২২ বছরে গুদাম থেকে মামলার কোন আলামত খোয়াও যায়নি ও চুরি হয়নি। গাঁজা উধাও হওয়ার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এ চুরির ঘটনা সাজানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুমিল্ল¬া অঞ্চলের উপ-পরিচালক শওকত ইসলাম বলেন, পরিদর্শনে এসে গুদাম সিলগালা করার দরকার মনে করায় আমরা সিলগালা করেছি। মামলার আলামত উধাও হওয়ার ঘটনার বিষয়টি আমি নিজেই তদারকি করছি। অচিরেই আমি উচ্চ পর্যায়ে রিপোর্ট পেশ করবো। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এ ঘটনায় মামলা নিষ্পত্তিতে জটিলতা সৃষ্টি হবে।