‘বর্ষায় বেড়ি বাঁধ নির্মাণে অর্থের অপচয় হয়’

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৩
বর্ষাকালে নদীর পাড়ে বেড়ি বাঁধ নির্মাণ অর্থ অপচয় ছাড়া অন্য কিছু নয়। কারণ বর্ষায় বাঁধের সব মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যায়। বিষয়টি জেনেও কর্তৃপক্ষ তা করছে বছরের পর বছর ধরে। ভোলা সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নে প্লাবনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা বর্ষার সময় বেড়ি বাঁধ নির্মাণ সম্পর্কে গতকাল বুধবার এমন মন্তব্যই করেছে। তারা বলেন, এ কারণে এলাকাবাসীর বাড়ি, গরু, ছাগলসহ ভেসে যায় ফসলি জমি। তাছাড়াও আছে নদী ভাঙ্গন। জেলার ৭টি উপজেলার ৩৮টি গ্রামের বাড়ি ও ফসলি জমি গত পনের দিনে তলিয়ে গিয়ে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। আমনের বীজতলা, আউশ ক্ষেত ও বাড়ির পুকুরগুলো পানির নিচে তলিয়ে ছিল ৭-৮ দিন। এই প্লাবনে শুধু পুকুর থেকে ১০ কোটি টাকার মাছ ভেসে গিয়েছে। ভোলা সদর উপজেলার প্লাবিত এলাকা ধনিয়া, কাচিয়া, পূর্ব ইলিশা ও বাপ্তায় গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে দরিদ্র মানুষের দুর্গতি। এলাকাগুলোয় গত মঙ্গলবার মধ্য রাত থেকে পুনরায় প্লাবিত হলে ঘরের মধ্যে সুপারি গাছের মাচা তৈরি করে তার উপর নামমাত্র শুকনা খাবার খেয়ে তারা কোন রকমভাবে দিনযাপন করছে। পূর্ণিমায় পানির চাপ আরো বাড়বে বলে আশংকা করছে এলাকাবাসী। বাপ্তা চেয়ারম্যান ইয়ানুর রহমান বিপ্লব মোল্যা ও ধনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমদাদুল হোসেন কবির বলেন, শুকনো মৌসুমে বাঁধ নির্মাণের কথা বলতে বলতে আমরা ক্লান্ত। তহবিল বরাদ্দ করলেও তা আসে বর্ষার আগে ও অপর্যাপ্ত। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ সম্পর্কে তারা জানান, মানুষের এই কষ্ট বর্ণনাতীত। কাচিয়া ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন আহমেদ হাওলাদার, পরানগঞ্জ বাজার মসজিদের পেশ ঈমাম কাওসার আহম্মেদ, পরানগঞ্জ হালিমা খাতুন গার্লস কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন, পরানগঞ্জ বাজারের কবি মোজাম্মেল হক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান, বাপ্তা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সগির আহমেদ ও নাজিউর রহমান কলেজের করণিক জাকির হোসেন জানান, বর্ষায় বেড়ি বাঁধ নির্মাণ বন্ধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান বলেন, শুকনো মৌসুমে বাঁধ নির্মাণের প্রধান অন্তরায় হলো জমির মালিকদের জমি দিতে রাজি না হওয়া। অনেক দেন-দরবারের পর দিতে রাজি হলেও তখন অনেকে সময়ক্ষেপণ করে। সর্বোপরি বাজেট বরাদ্দের অপ্রতুলতায় ঠিকাদাররা সহজে কাজ করতে চায় না। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে কাজ শুরু করতে করতে বর্ষা এসে যায়। বাঁধ প্লাবনরোধ করতে পারলেও ভাঙ্গনরোধ করতে পারে না। ভাঙ্গনরোধে নদী পাড়ে সিসি ব্লক স্থাপন করতে হবে।