পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগ-কারীদের সহায়তায় পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ছাড় হবে আগামী রবিবার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ তিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ফায়েকুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, এ তহবিলের প্রথম কিস্তি হিসেবে ৩০০ কোটি টাকা আগামী রবিবার ছাড় হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা শর্তপূরণ সাপেক্ষে এ অর্থ নিতে পারবেন। শর্ত অনুসারে, ২০০৯ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত যেসব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী দশ লাখ টাকার নিচে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারাই শুধু এ অর্থ পাবেন। একই সঙ্গে নীতিমালা অনুযায়ী তহবিলের মেয়াদ বহাল থাকবে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
জানা গেছে, শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফ ও ঋণ পুনঃতফসিল করতে ৯০০ কোটি টাকা অনুমোদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক তার মুনাফা থেকে সরকারকে যে অর্থ দেয়, তা থেকেই এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। আর এ তহবিলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি পোষাতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের সুপারিশ করে গত পাঁচ মে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণ দিতে এ তহবিল গঠন করতে বলা হয়। তবে মূল্যস্ফীতি এবং আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার শর্ত বিবেচনা করে প্রথমে তহবিল গঠনের বিপক্ষে ছিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে সরকারের নানা পর্যায়ের চাপে অনেকটা বাধ্য হয়ে তহবিল গঠনে করতে রাজি হয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকার ঘোষিত এ প্রণোদনা প্যাকেজ ছাড়া অন্য কোনো খাতে তহবিলের অর্থ ব্যয় হবে না। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ অথবা নতুন ঋণ বিতরণ অথবা উভয় উদ্দেশ্যে দেয়ার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউসগুলোকে ঋণ হিসেবে এ অর্থ দেবে আইসিবি। তহবিলের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নয় শতাংশ সুদে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস থেকে ঋণ পাবেন। এ ঋণ আইসিবি থেকে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো পাবে সাত শতাংশ সুদে। আর সরকার আইসিবিকে তা দিচ্ছে পাঁচ শতাংশ সরল সুদে। মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর সঙ্গে মেয়াদি ঋণ চুক্তি করবে আইসিবি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক এস এম মনিরুজ্জামান, আইসিবির পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো:ফায়েকুজ্জামান এবং বিএসইসি পক্ষে নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান এমওইউ স্বাক্ষর করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কে এম আব্দুল ওয়াদুদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
