পর্যায়ক্রমে দেশের সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য সংশোধন করা হচ্ছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন। এতোদিন শুধু ভোটারদেরকেই দেয়া হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র। এছাড়াও এবার জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ ৫ বছর কমিয়ে করা হচ্ছে ১০ বছর। তবে আগামীতে বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্র হিসাবে দেয়া হবে ‘স্মার্টকার্ড’।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘এখন সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার সুযোগ রেখে আইন সংশোধনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিভাগ ১৮ বছরের কম বয়সীদেরও তথ্যসংগ্রহ করে কার্ড দিতে পারবে।’
সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী ১৫ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ছবিসহ ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে ৯ কোটি ২২ লাখের মতো মানুষের। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী এই ভোটারদের সিংহভাগের হাতে পৌঁছেছে লেমিনেশন করা কাগজের তৈরি জাতীয় পরিচয়পত্র। আইনে না থাকলেও সরকারের বিভিন্ন সেবা নিতে এ পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে। অথচ দেশের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্র বঞ্চিত রয়েছে। জাতীয়ভাবে পরিচয়পত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা না হলেও এটি নিয়ে প্রায়শ বিপাকে পড়ছেন নাগরিকরা।
২০১০ সালে ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন এবং তদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধানবলী প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইনের ১১ ধারায় বলা আছে, ‘সরকার, সরকারি গেজেটে এবং তদতিরিক্ত ঐচ্ছিকভাবে ইলেকট্রনিক গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উহাতে উল্লিখিত যে কোন সেবা বা নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে, নাগরিকগণকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন ও উহার অনুলিপি দাখিলের ব্যবস্থা চালু করিতে পারিবে। তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশের সমগ্র এলাকায় নাগরিকগণের অনুকূলে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এইরূপ প্রজ্ঞাপন জারি বা ব্যবস্থা চালু করা যাইবে না। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন, কিংবা ক্ষেত্রমত, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি দাখিল করিবার জন্য কোন নাগরিককে বাধ্য করা যাইবে না এবং জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকিবার কারণে কোন নাগরিককে নাগরিক সুবিধা বা সেবা পাইবার অধিকার হইতে বঞ্চিত করা যাইবে না। যদিও মোবাইলের সিম, ব্যাংক একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য নিত্য নৈমিত্তিক কাজে লাগছে এই জাতীয় পরিচয়পত্র। ফলে সবার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অণুবিভাগ। এর অংশ হিসাবে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০১০’ সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত ৯ জুলাই নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্প্রতি আইন সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে কমিশনের এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, কমিশনকে প্রতিবছরই ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হয়। সংশোধিত আইন পাস হলে সময়ে সময়ে তথ্যসংগ্রহ করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৮ বছরের কম বয়সীরাও তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর চলতি নবম সংসদের শেষ অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। ওই অধিবেশনে প্রস্তাবিত বিলটি উঠতে পারে বলে তিনি জানান।
ইসি সচিবালয়ের সচিব বলেন, স্মার্টকার্ডের লাইফটাইম ১০ বছরের বেশি করা সম্ভব নয়। এজন্যে এ সংশোধন আনা হচ্ছে। বিদ্যমান জাতীয় পরিচয়পত্র ভোটারদের কাছ থেকে ফেরত নিয়ে বিনামূল্যে প্রথমবারের মতো স্মার্টকার্ড দেয়া হবে সংশ্লিষ্টদের। প্রথমবার পাওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ‘একটি ফি’ নির্ধারণ করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মেয়াদ ১৫ বছর থেকে কমিয়ে ১০ বছর করা হচ্ছে। ইসির বৈঠকে এনআইডির মেয়াদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রথমে এর মেয়াদ আট বছর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও পরে তা ১০ বছর করা হয়েছে।
