আত্মবিশ্লেষণ

আপনি কতটা কৌতূহলী?

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৩, ১৯:২০
মানুষ মাত্রই কৌতূহলী। অতএব আপনার মাঝেও কৌতূহল থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এই কৌতূহলের পরিমাণ কতটুকু আসুন আজ জেনে নেওয়া যাক। ১. ঘরের জিনিসপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে হঠাত্ করে আপনার বোনের ডায়েরিটা এসে পড়ল আপনার হাতে। আপনি— ক. ডায়েরিটা খুলবেনই না। কারণ, অন্যের ডায়েরি বা চিঠি পড়াটা আপনার কাছে খুব খারাপ কাজ বলে মনে হয়। খ. ডায়েরিটা উল্টে-পালটে দেখবেন বটে, কিন্তু বেশি ঘাঁটাঘাঁটি না করে রেখে দেবেন। গ. অন্যের ডায়েরি পড়ার সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়? অতএব প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলবেন এক নিঃশ্বাসে। ২. আপনি নতুন মোবাইল কিনেছেন। কিন্তু সেদিনই আপনার বাড়ি ফিরতে অনেক রাত হয়ে গেল। আপনি— ক. ফোনটা যত্নসহকারে রেখে দেবেন এই ভেবে যে, সকালে ঠাণ্ডামাথায় ম্যানুয়ালটা নিয়ে বসা যাবে। খ. সেই রাতেই ম্যানুয়ালটা মুখস্থ করে ফেলবেন। সকালের জন্যে ফেলে রাখার কোনো মানে হয় না। গ. চার্জে বসিয়ে দিয়ে সোজা ঘুম দেবেন। মোবাইল তো উড়ে যাচ্ছে না। যখন খুশি নিয়ে বসলেই হলো। ৩. আপনার বন্ধুর হাবভাবে বুঝতে পারছেন তার সঙ্গে প্রিয় মানুষটির ঝগড়া হয়েছে। আপনি— ক. পুরো ব্যাপারটা জানার জন্য উঠেপড়ে লাগবেন। কারণ, যতক্ষণ না জানতে পারছেন; ততক্ষণ আপনার মনে শান্তি নেই। খ. কৌতূহল থাকলেও তা দেখাতে পছন্দ করেন না। তাই জানার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও চেপে যাবেন। গ. বন্ধু কিছু বলে কি-না দেখবেন। না বললে আপনিও উদাসীন থাকবেন। ৪. ক্লাসে বা কোচিংয়ে স্যার পড়াতে পড়াতে উঁচু স্তরের কোনো বই থেকে রেফারেন্স দিলেন। আপনি— ক. স্যার যা বলেছেন, তাতেই খুশি থাকবেন। বেশি কিছু জানার আগ্রহ দেখাবেন না। খ. কোনো দ্বিধা না করে বইটা কিনেই ফেলবেন। কাজে লাগুক বা না লাগুক, বইটা হাতে থাকা তো ভালো। গ. স্যারের কাছ থেকে একদিন বইটা চেয়ে নিয়ে একনজর দেখে নেবেন। ৫. আপনি প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে বের হয়েছেন। হঠাত্ তার সঙ্গে অন্য কোনো বন্ধুর দেখা হলো। আপনি— ক. প্রিয় বন্ধুর কাছে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চাইবেন—তার দেখা হওয়া ওই বন্ধুটির সম্পর্কে। খ. ব্যাপারটাকে একদমই ভুলে যাবেন এবং নিজেদেরকে নিয়েই মশগুল থাকবেন। গ. প্রথম প্রথম ওই বন্ধুটির সম্পর্কে জানার ব্যাপারে আগ্রহ দেখালেও একটু পরেই ভুলে যাবেন এবং নিজেদেরকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠবেন। আপনার অবস্থান ০-১৫ :অসাধারণ ব্যাপার। কৌতূহল কাকে বলে? জানেনই না বোধহয়। নিজ থেকে উদ্যোগ নিয়ে কোনো ব্যাপারই আপনি জানতে চান না। এটা একদিকে ভালো। কিন্তু জীবনটাই যে একটা রহস্য। ২০-৩৫ :আপনাকে কিছুই বলার নেই। কারণ আপনি নিজেই জানেন যে, আপনি ভীষণ ব্যালান্সড। সবকিছু নিয়েই আপনার কৌতূহল আছে। কিন্তু আপনি জানেন, কোথায় দাঁড়ি টানতে হয়। আপনার কৌতূহল যাতে অন্যকে আঘাত না করে, সেদিকেও নজর আছে আপনার। সব কিছুতেই আপনি নতুনত্ব খুঁজে পান এবং জীবনকে উপভোগ করতে পারেন। তাই বলে অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলানো আপনি একবারেই পছন্দ করেন না। ৪০-৫০ :ধরে নিতে হবে আপনার স্বভাব হচ্ছে ‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখিবে তাই’ টাইপের। কিন্তু জনাব, সব সময় কি অমূল্য রতন মেলে? অতি কৌতূহল কিন্তু কখনোই ভালো হয় না। এতে লোকে আপনাকে ভুল বুঝতে পারে। তা ছাড়া সকলের সব কথা জানা কি ভালো? জীবনে কিছু রহস্য তো রাখতেই হয়। তা না হলে আনন্দ কিসের? নিজের কৌতূহলকে না হয় একটু চেপে রাখার চেষ্টা করলেন। তাতে কি এমন ক্ষতি হবে? অন্তত লোকের বিরক্তির হাত থেকে তো বেঁচে যাবেন। এটাই বা কম কিসে! অতএব, একটু ভেবে দেখুন। আপনার স্কোর ক খ গ ১. ০ ৫ ১০ ২. ৫ ১০ ০ ৩. ১০ ৫ ০ ৪. ০ ১০ ৫ ৫. ১০ ০ ৫