গল্প নয় সত্যি

হূদযন্ত্রহীন ৪৫ মিনিট!

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৫৯
পেশায় তিনি ছিলেন ডিজেল ইঞ্জিনের মেকানিক। পেশাগত প্রয়োজনে ডিজেল চালিত বিভিন্ন গাড়ির থেমে যাওয়া ইঞ্জিনকে পুনরায় সচল করাই ছিল তার কাজ। তবে এই পেশা নিয়ে দিব্যি দিন কাটানো আমেরিকার ওহিও অঙ্গরাজ্যের পশ্চিম ক্যারলটনের বাসিন্দা টনি ইয়েলের নিজের ইঞ্জিনটাই (পড়ুন হূদযন্ত্র) যে এভাবে এত অল্প বয়সে বিকল হয়ে যাবে তা কে জানত! গেল ৫ আগস্ট তাই সবাইকে অনেকটা অবাক করে দিয়েই থেমে গিয়েছিল ইয়েলের হূদস্পন্দন। ডাক্তার, নার্স আর প্রিয়জনদের বহু চেষ্টা আর আকাঙ্ক্ষাকে পেছনে ফেলে তার না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার বিষয়টাও তখন নিশ্চিত। কিন্তু হূদযন্ত্র থেমে যাওয়া মৃত(!) ইয়েলকে দেখার জন্য যখন হাসপাতালের নিবীড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সবাইকে ডাকবার আয়োজন চলছিল তখনই ঘটে যায় অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। হূদযন্ত্র থেমে যাওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পর আবারও জীবনের লক্ষণ দেখা দিতে থাকে ইয়েলের শরীরে। মুহূর্তেই আবারও চঞ্চল হয়ে ওঠেন তার পাশে থাকা ডাক্তার আর নার্সেরা। প্রায় আলৌকিকভাবে বেঁচে ওঠা ইয়েলকে জীবনের বাকিটা পথ দেখাতে সক্ষম হন ডাক্তাররাও। তবে হূদযন্ত্র থেমে যাওয়ার ৪৫ মিনিট পরও একজন মানুষ কীভাবে বেঁচে ফিরতে পারেন এখন সেটাই হয়ে উঠেছে চিকিত্সা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আলোচনা। তাছাড়া বিষয়টি যে কতটা অবিশ্বাস্য আর বিস্ময়কর সেটা পরিষ্কার তার চিকিত্সার দায়িত্বে থাকা ডা. রাজা নাজিরের মন্তব্যেও—‘আমার গত বছরের চিকিত্সা পেশার জীবনে আমি এমন একজনকেও পাইনি যাকে আমরা মৃত ঘোষণার পর জীবিত ফিরে এসেছেন। এমনকি হূদযন্ত্র বন্ধ হবার পর বেঁচে ওঠার এমন সংবাদও আমি কখনো কোথাও শুনিনি।’ আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ইয়েলের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর তার হার্ট বা হূদযন্ত্র বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও সেখানে কোনো ত্রুটি খুঁজে পাননি ডাক্তাররা। তাই তারা এখন ধারণা করছেন যে, হয়তো কোনো ভাইরাসের সংক্রমনেই সে সময় হুট করে থেমে গিয়ে থাকতে পারে ইয়েলের হূদযন্ত্রখানা!’