উচ্চ আদালতে জমে আছে চার শতাধিক ডেথ রেফারেন্স

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০০
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৪০৭টি ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ) মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব ডেথ রেফারেন্সের বিপরীতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের নিয়মিত ও জেল আপিল রয়েছে শুনানির অপেক্ষায়। সূত্র জানিয়েছে, হাইকোর্টের চারটি ডিভিশন বেঞ্চ বর্তমানে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল নিষ্পত্তি করে থাকেন। দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি এসব মামলার শুনানির জন্য বেঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়েছেন। এসব বেঞ্চে ২০০৮ সালে নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের মামলার শুনানি চলছে। এর মধ্যে জুলাই পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে ৪১টি মামলা। তবে বিশেষ বিবেচনায় দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ এস. আল আলী হত্যা মামলাটি এখন হাইকোর্টে। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে নিম্ন আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের অনুমোদন এবং আসামিদের জেল আপিলের শুনানির জন্য এসেছে। ইতিমধ্যে পেপার বুক পড়া শুরু হয়েছে। অবকাশের পর পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এমকে রহমান বলেন, পর্যায়ক্রমে ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি হচ্ছে। শুনানির আগে তো পেপারবুক প্রস্তুত করতে হবে। কারণ পেপার বুক তৈরি করতে একটু সময় বেশি লাগছে। এরপর তালিকায় আসলে শুনানি শুরু হয়। তিনি বলেন, এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি প্রয়োজন মনে করলে আরো বেঞ্চ বাড়াতে পারেন। তবে আমি মনে করি এসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য আরো গতি বাড়ানো দরকার। এজন্য দক্ষ ও যোগ্য বিচারক নিয়ে বেঞ্চ গঠন করা প্রয়োজন। এম কে রহমান বলেন, কনডেম সেলে ফাঁসির আসামিরা মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। তাদের অধিকার রয়েছে যাতে দ্রুত এসব মামলার বিচার শেষ হয়। কারণ যত দ্রুত নিষ্পত্তি হবে ততই মঙ্গল। উল্লেখ্য কোন ফৌজদারি মামলায় নিম্ন আদালত কাউকে ফাঁসি দিলে ওই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রার বরাবর চিঠি দেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক দেয়া এই চিঠিতে ফাঁসির রায়ের অংশ বিশেষ তুলে ধরে বলা হয়, মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে উক্ত মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার আদেশ হলো। তাই হাইকোর্টের সদয় অনুমোদনের জন্য মামলার কাগজপত্র, সিডি, মূল নথি ও যাবতীয় প্রসিডিংস পেশ করা হলো। এরপর রায়ের কপি প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে আসামিরা আপিল দায়ের করেন। পরবর্তীকালে মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, নিম্ন আদালতের আদেশনামা ও রায়, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা, সিআরপিসির ৩৪২ ধারা মোতাবেক অভিযুক্ত ব্যক্তির পরীক্ষা, আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল রিপোর্ট, ময়না তদন্ত রিপোর্ট, ফরেনসিক ও ক্যামিকেল রিপোর্ট, জব্দ তালিকা, খসড়া মানচিত্র ও সূচীপত্রসহ বিস্তারিত নথিপত্র যুক্ত করে বিজি প্রেস থেকে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়। এদিকে সূত্র জানায়, চার শতাধিক ডেথ রেফারেন্সের মামলার মধ্যে ২০০৮ সালের ৯৬টি, ২০০৯ সালের ৭৫টি, ২০১০ সালের ৭৪টি, ২০১১ সালের ৬৬টি, ২০১২ সালের ৬০টি ও চলতি বছরের ৩৫টি বিচারাধীন রয়েছে। তবে ২০০৫ সালের একটি ডেথ রেফারেন্সের মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। এসব মামলায় মোট ৯৮৭ জন ফাঁসির আসামি মৃত্যুপরোয়ানা নিয়ে কারাগারের কনডেম সেলে অবস্থান করছেন। এছাড়া গত বছরে ১৪৫টি ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের দায়েরকৃত আপিলের নিষ্পত্তি করেছে হাইকোর্ট। সূত্র আরো জানায়, ২০০৮ সালের বিচারাধীন মামলার মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরীকে লক্ষ্য করে সিলেটে গ্রেনেড ছুঁড়ার ঘটনার মামলাটিও রয়েছে। ওই মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ হুজির শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই জঙ্গিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীম মো. আফজাল। খালাফ হত্যা মামলা সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ এস. আল আলীকে হত্যার দায়ে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, সাইফুল ইসলাম ওরফে মামুন, মো. আল-আমিন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি, রফিকুল ইসলাম ও সেলিম চৌধুরী ওরফে সেলিম আহম্মেদ। তাঁদের মধ্যে সেলিম চৌধুরী পলাতক। এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এডভোকেট খুরশীদুল আলম বলেন, খালাফ হত্যা মামলাটি প্রধান বিচারপতি এই বেঞ্চে পাঠিয়েছেন। অবকাশের পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি শুরু হবে।