‘সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ এসিড সহিংসতা প্রতিরোধ’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, এসিড সহিংসতার ভয়াবহতা বাড়ছে। ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে এই সহিংসতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের। গত ১০ বছরে যে হারে এসিড সন্ত্রাসের সংখ্যা কমে এসেছিল, চলতি বছর সেভাবে কমছে না। আইনের যথাযথ প্রয়োগ, প্রচার ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সচেতনতার মধ্য দিয়ে এসিড সন্ত্রাস কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানান এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন, নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
গতকাল শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন (এএসএফ) আয়োজিত ঐ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এএসএফ’র নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ।
তিনি বলেন, ১১ বছরে এসিড সন্ত্রাসের মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও এখন পর্যন্ত একজনের রায়ও কার্যকর হয়নি। ২০০২ থেকে ২০১৩ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১১ বছরের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এসিড সন্ত্রাসের ঘটনায় সারা দেশে মামলা হয়েছে এক হাজার ৮১২টি। এতে অভিযুক্ত ছিল ৪ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে ৫৭৪ জন কেবল গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশ এক হাজার ৯২টি মামলার অভিযোগপত্র ও ৭১০টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। সাজা হয়েছে এমন মামলার সংখ্যা মাত্র ১৭২ জন। মোট সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ২৯১ জন। যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩ জন, যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ১০৮ জন ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭০ জন।
তিনি বলেন, আইন থাকার পরেও সর্বক্ষেত্রে যেমন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে না, তেমনি এসিডের সহজলভ্যতার কারণে সহিংসতার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এএসএফ’র তত্ত্বাবধানে নির্মিত সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন সরকারি/বেসরকারি রেডিও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বিনামূল্যে প্রচার হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো হচ্ছে না।
এএসএফ-এর একটি জরিপের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এসিড সহিংসতার শিকার নারীর সংখ্যা ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যার বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে জমি-জমা সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জমির মালিক পুরুষ, অথচ এই সম্পত্তির কারণে নারীকেই সহিংসতার শিকার হতে হচ্ছে।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ও এএসএফ’র চেয়ারপার্সন ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের দেশের যে অগ্রগতি, এর সঙ্গে এসিড সন্ত্রাসের যে বিষয়টি তা একেবারেই যায় না। আমরা এ ধরনের অপরাধ আর দেখতে চাই না। এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রে সরকার ও বিচার বিভাগের ইচ্ছা দরকার।
সম্মেলনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, সম্প্রতি এসিড সন্ত্রাসের যে ভয়াবহতা দেখা যাচ্ছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন ও তা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
এএসএফ’র উপদেষ্টা মনিরা রহমান বলেন, নারী-পুরুষ এমনকি ছোট্ট শিশুরাও এসিড সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে। চলতি বছর ১ জুলাই থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ১২ জন এসিড সহিংসতার শিকার হয়েছে।
