পদ্মা সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও ভূমিহীনদের অবকাঠামো ক্ষতিপূরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির মালিক, ভাড়াটিয়া ও জেলা রাজস্ব শাখার এক অসত্ কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা হরিলুট করেছে বলে অভিযোগে উঠেছে। একই ঘরে পিতা ও পুত্রের নামে পৃথকভাবে ভাড়াটিয়া দেখিয়ে দুইবার টাকা তুলে নেয়া হচ্ছে প্রতারণার মাধ্যমে। আবার রাজস্ব কর্মকর্তার যোগসাজশে অনেক নিচু কৃষি জমিতে তড়িঘড়ি ঘর তুলে, কোথাও গরুর খামার দেখিয়ে ব্যবসায়িক ক্ষতিপূরণ হিসেবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।
সরজমিনে পদ্মা সেতুর এ প্রান্ত মুন্সীগঞ্জের কুমারভোগ ও মেদিনীমন্ডল ইউনিয়ন ঘুরে এমনি কিছু চিত্র দেখা যায়। দক্ষিণ মেদিনীমন্ডল মৌজার ৬৫৬ দাগের মাত্র ১২টি পরিবারের বসবাস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একই দাগে ১২টি পরিবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে অংশিক করে দুই দফা ভিন্ন ভিন্নভাবে তদন্ত করে দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। প্রথম দফায় এখানকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একাংশ ক্ষতিপূরণের টাকা অনেক আগেই পেয়ে যান। দ্বিতীয় দফা ক্ষতিপূরণের তদন্তের আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ করে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিতে ওই দাগের ছোট একটু জায়গাকে দ্বিতীয় দফা তদন্তের জন্য কাজ অংশিক করে চলে যান রাজস্ব বিভাগের লোকজন। দ্বিতীয় দফায় গত ৩০ জুন ১২ ব্যক্তির কাছে জেলা রাজস্ব অফিস থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা নেবার জন্য ৭এর (৩) উপধারা বলে একটি নোটিস আসে। সর্বমোট ৫৯ লক্ষ ৫৬ হাজার ৫৯৪ টাকা ক্ষতিপূরণ নিতে তাদেরকে রাজস্ব অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
এই নোটিসে এক ব্যক্তির নাম দেখে হতবাক এলাকাবাসী। মোঃ সাইদ বেপারী নামে এক ভাড়াটিয়ার নামে নোটিস এসেছে টাকা নেবার জন্য। অথচ যৌথ ফ্যামিলির ওই ভাড়াটিয়ার পিতা হান্নান বেপারীর নামে প্রথম দফায় ঘরের ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে নেয়া হয়েছে বহু পূর্বেই। দ্বিতীয় দফা ক্ষতিপূরণের তদন্তকালে ভাড়াটিয়া, জমির মালিক ও রাজস্ব শাখার কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেই ভাড়াটিয়া হান্নান বেপারীর ঘরের পূর্ব পাশে একটু বারান্দার মত বর্ধিত করে ঘরের অবকাঠামোর পরিমাণ বৃদ্ধি করে পুত্র মোঃ সাইদ বেপারীকে ভাড়াটিয়া দেখিয়ে পদ্মা সেতুর ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আর এসব দুর্নীতিতে জেলা রাজস্ব শাখার অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তাকে আর্থিকভাবে খুশি না করে কেউ ক্ষতিপূরণের চেক নিতে পারেনি।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা দুর্নীতি করার কোন সুযোগ নেই। আমরা তদন্ত করতে দিন-রাত খেটেছি। অথচ কেউ আমাদের ৫শ’ টাকা পর্যন্ত দেয়নি। দক্ষিণ মেদিনী মন্ডলের ৬৫৬ দাগের ওই বাড়িতে একটি ঘরকে বর্ধিত করে দ্বিতীয় দফা পুত্রকে ভাড়াটিয়া বানিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য ডাকা হয়েছে কেন? - এ রকম প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে না পারলেও শহীদুল ইসলাম ওই ঘরের চেক প্রদান বন্ধ রেখে তদন্ত করার জন্য তার সহকারীকে নির্দেশ দেন।
জেলা রাজস্ব অফিসের কিছু দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তার জন্য এখানে এরকম আরো অনেক দুর্নীতি হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন। বর্ষায় পানি উঠে এমন কৃষি জমিতে তড়িঘড়ি করে ঘর তুলতে সাহায্য করেছে জেলা রাজস্ব অফিসের ওই কর্মকর্তাবৃন্দ। সেই সময় পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হলেও কোন তদন্ত না করে ওই সব অবকাঠামো ও ভুয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে লক্ষ লক্ষ টাকার জালিয়াতি হয়েছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেছে।
