আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ করে ঐতিহ্যবাহী নদীবন্দরের চাঁদপুর জেলায় ৫টি নির্বাচনী আসনে নির্বাচনের আগাম হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বড় দু’টি দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে প্রচার-প্রচারণা ও নিজেদের জনসম্মুখে পরিচিত করতে শুরু করেছেন। এসব প্রার্থীদের অনেকেই সভা, সমাবেশ, শুভেচ্ছা বিনিময়, দান-খয়রাত, ব্যানার, পোস্টার তৈরি করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে আবার সংবাদ সম্মেলন, গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে ঘন ঘন নিজ নিজ এলাকা সফর করছেন।
একইসাথে দলীয় মনোনয়ন পেতে বহু নেতাকর্মী কেন্দ ীয় পর্যায়ে লবিং করে যাচ্ছেন। বিএনপি তাদের দাবী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে যাবে না বলে যাচ্ছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে প্রায় প্রতিটি নেতাই নিজ নিজ অবস্থান বেশ গরম ও গুছিয়ে রেখেছেন।
চাঁদপুর জেলায় ৮টি উপজেলা, ৮টি পৌরসভা রয়েছে। এই জেলায় ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ। পূর্বে এই জেলায় নির্বাচনী আসন সংখ্যা ছিল ৬টি। ২০০৮ সালের গেজেট অনুযায়ী আসন সংখ্যা বিন্যাস করে আসন সংখ্যা করা হয়েছে ৫টি। এ জেলায় আসন সংখ্যা যেভাবে বিন্যাস করা হয়েছে তা হচ্ছে ঃ-
চাঁদপুর-১ ঃ কচুয়া উপজেলা এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন। চাঁদপুর-২ ঃ মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলা নিয়ে গঠিত। চাঁদপুর-৩ ঃ চাঁদপুর সদর উপজেলা ও হাইমচর উপজেলা নিয়ে গঠিত। চাঁদপুর-৪ ঃ এটি ফরিদগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে। চাঁদপুর-৫ ঃ এটি হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নিয়ে গঠিত।
এসব আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য সংগঠন থেকে একাধিক ব্যক্তি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী সরাসরি নিজে নির্বাচনের কথা না বলে বিভিন্নভাবে অন্যদের সৌজন্যে স্ব স্ব এলাকায় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছবি সংবলিত বিরাট ডিজিটাল ব্যানার, পোস্টার, ব্যানার লাগিয়ে যাচ্ছেন।
চাঁদপুরের ৫টি নির্বাচনী আসন ঘুরে এলাকায় জনগণের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সাধারণ ভোটাররা আগের তুলনায় এবার অনেক সচেতন। তারা তাদের ভোট প্রয়োগের ক্ষেত্রে খুব চিন্তা-ভাবনা করে প্রয়োগ করবে। কারণ ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্লাব, সমিতি, হাটে-মাঠে তাদের অতীতের কার্যকলাপ এলাকার চাহিদা পূরণে তাদের ভূমিকা, এলাকার উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের সাথে আচরণ ইত্যাদি নিয়ে মূল্যায়ন শুরু করে দিয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই প্রতিটি স্থানে এসব নিয়ে আসর বেশ গরম হয়ে উঠছে। ভোটারদের বক্তব্যঃ আমরা এবার প্রার্থীদের চুলচেড়া বিশ্লেষণ করেই ভোট দিব। এলাকায় যে ব্যক্তি অর্থশালী, প্রভাবশালী, নামি-দামি এমন ব্যক্তি হলেই তাকে ভোট দিব না। যিনি আমাদের এলাকার যোগাযোগ, কৃষি, সেচ, বন্যা, নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস, বিদ্যুত্, পানি শিক্ষা ইত্যাদি সমস্যার সমাধান করতে পারবেন এবং এলাকার জনগণের সাথে সুসম্পর্ক রাখবেন এমন ব্যক্তিকেই আমরা এবার নির্বাচিত করব। অনেক ভোটার মন্তব্য করছেঃ এবার টাকা পয়সা দিয়ে ভোট ক্রয় করা যাবে বলে খুব একটা মনে হয় না।
চাঁদপুরের ৫টি আসন ঘুরে এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে এবং জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সাথে আলোচনা করে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম জানা গেছে তারা হচ্ছেনঃ
চাঁদপুর-১ ঃ আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, বিএনপি থেকে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতা আনম এহছানুল হক মিলন, জাতীয় পার্টি থেকে কেন্দ্রীয়, নেতা ডাঃ সহিদুল ইসলাম, জাসদ থেকে জয়দেব কর্মকার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে অধ্যক্ষ নূরুল আলম মজুমদার ও অধ্যাপক মাওলানা মোঃ আলমগীর শাহ।
চাঁদপুর-২ ঃ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বর্তমান এমপি এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) রফিকুল ইসলাম, বিএনপি থেকে সাবেক সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ নূরুল হুদা, বিএনপির আরেক নেতা ড. জালালউদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফা খান সফরী, জাসদ থেকে মনজুর আহমেদ মনজু।
চাঁদপুর-৩ ঃ আওয়ামী লীগ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা ডাঃ দীপু মনি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সুজিত রায় নন্দী, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, বিএনপি থেকে সাবেক এমপি জিএম ফজলুল হক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জাতীয় পার্টি থেকে কেন্দ্রীয় নেতা এসএমএম আলম, গণ ফোরাম থেকে এডভোকেট সেলিম আকবর, বিএনপির আরেক নেতা মাহবুবুর রহমান শাহীন, ইসলামী ফ্রন্ট থেকে অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর মোঃ মাইনুদ্দিন, বাসদের শাহজাহান তালুকদার, জাসদের অধ্যাপক হাসান আলী শিকদার।
চাঁদপুর-৪ ঃ আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি ড. শামছুল হক ভুঁইয়া, সাংবাদিক শফিকুর রহমান, বিএনপির বর্তমান এমপি লায়ন হারুন-উর-রশিদ, মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুব দলের (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী রফিক, বাসদের আলমগীর হোসেন দুলাল, হারুন অর রশিদ, ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মোঃ গোলাম মাহমুদ ভুঁইয়া মানিক, জাসদ থেকে বিমল চন্দ্র সরকার।
চাঁদপুর-৫ ঃ আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বিএনপি থেকে জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, সাবেক এমপি এমএ মতিন, ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী, মওলানা সৈয়দ মোঃ জাহান শাহ, ড. জালালউদ্দিন কাশেমী, জাসদ থেকে মনির হোসেন মজুমদার। এছাড়াও আরো নতুন বহু লোকের নাম শোনা যাচ্ছে।
