ডা. এম নজরুল ইসলাম
ফ্যাকো ও গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞ
বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা
তিনি যখন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে পড়েন তখন একটা বাইক নিয়ে দিনমান ঘুরে বেড়াতেন। সংবাদ সংগ্রহ করবেন একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী, সেটা যেকোনো সংবাদ নয়। তিনি ঘুরতেন মেডিকেল সংবাদের পেছনে। আর আজ তার অনেক বছর পরে এসেও বাংলাদেশের চক্ষুবিজ্ঞানের এক অগ্রপথিক সময় দেন দেশ-বিদেশের নামী সব সেমিনারে। তার তথ্য নিয়ে আমাদের দেশের গ্লুকোমা সার্জনেও এসেছে আধুনিকতা। আর কেউ হয়তো এভাবে অকালে অন্ধত্ব বরণ করবেন না। সত্যিকার অর্থেই একজন সেবক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. এম নজরুল ইসলাম। বারডেম হাসপাতালে দীর্ঘদিন কর্মরত রয়েছেন তিনি। নিজের শহরে একটি কমিউনিটি আই হসপিটালও করেছেন। সেখানেও মাসে দুদিন যান, অপারেশন করে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনেন আরও অনেকের।
এম নজরুল ইসলাম মূলত কাজ করছেন গ্লুকোমা নিয়ে। গ্লুকোমা চোখের এমন একটি মারাত্মক রোগ, যা বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে অন্ধত্বের দ্বিতীয় কারণ। বাংলাদেশ গ্লুকোমা সোসাইটির নির্বাচিত সভাপতিও তিনি। অধ্যাপক এম নজরুল ইসলাম চিকিত্সার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও সমান এগিয়ে গেছেন তিনি। এমসিপিএস আর এফসিপিএস করেছেন চক্ষুর উপর। গ্লুকোমার উপর তার একাধিক ফেলোশিপ রয়েছে। নিয়মিত দেশ-বিদেশের সেমিনারে বাংলাদেশের গ্লুকোমা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। এম নজরুল ইসলামের ছেলেবেলা কেটেছে যশোরের জয়পুরে। নারিকেলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছুদিন পড়ার পর নড়াইলে চলে আসেন। সেখান থেকে এসএসসি-এইচএসসি দেন তিনি। নিজ যোগ্যতায় জায়গা করে নেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাবা ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, মা গৃহিণী। তারাও অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তাকে। তার স্ত্রী বি এইচ নাজমা ইয়াসমিন শিশু বিশেষজ্ঞ। এদেশের গ্লুকোমা সার্জারি তথা চক্ষু বিজ্ঞানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাবেন ডা. এম নজরুল ইসলাম। সেই শুভকামনা।
ডা. এম নজরুল ইসলাম
ডাকনাম :নজরুল
জন্মতারিখ ও স্থান :১২ মার্চ, যশোর
মায়ের নাম :ছায়েরা হক
বাবার নাম :এ কে এম শামসুল হক
প্রিয় মানুষ :আমার পরিবারের সবাই
প্রিয় উক্তি :জীবনে সত্ কাজের পেছনে সময় দিয়ে যাওয়া।
প্রিয় পোশাক :শার্ট-প্যান্ট
অবসর কাটে যেভাবে :ফেসবুকে, ইন্টারনেটে
সাফল্যের সংজ্ঞা :জীবনে যখন যে কাজটা আসবে সেটা তখন সঠিকভাবে করা।
===
ডা. মো. মিনহাজুর রহমান
উপ পরিচালক ও প্রধান চক্ষু কনসালটেন্ট
আদদ্বীন জেনারেল হাসপাতাল
মিনহাজুর রহমানের শুরুর গল্পটা আজকের দিনের মতো এতটা মধুর ছিল না। দরিদ্র পরিবারে জন্ম তার। সাত ভাইয়ের মধ্যে পঞ্চম তিনি। বড় পরিবারের ভাত-কাপড়ের সংস্থান করে সেসময় পড়াশোনা চালানো ছিল অনেক কষ্টকর। এ নিয়ে বললেন, ‘নিজের চেষ্টা, একাত্মতা, সৃষ্টিকর্তার সহায়তা এবং আমার বড় ভাই মরহুম আব্দুল মাজেদের তত্ত্বাবধানে তাই যশোর জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং যশোর এমএম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে চিকিত্সক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আবেদন করি মেডিকেলে। অতঃপর বরিশাল মেডিকেল থেকে পাশ করে আজ দীর্ঘ ২৫ বছরের ডাক্তারি জীবন।’
কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই পেশায় জানতে চাইলে মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘চিকিত্সা পেশা এমন একটি পেশা যেখানে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে আন্তরিকভাবে নিজেকে ব্যাপৃত রাখা সম্ভব নয়। যখন চোখের সমস্যায় ধুকতে থাকা রোগীগুলো নিজের পূর্ণ দৃষ্টি ফিরে পান তখনই আমি সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করি। এ ছাড়া দূরদূরান্তে ক্যাম্প করে মানুষের হাতের নাগালে চোখের সেবা পৌঁছে দেয়ার মাঝে যে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ কাজ করে তা বোধকরি একজন চক্ষু ডাক্তারের পক্ষেই উপলব্ধি করা সম্ভব।’ পেশা হিসেবেও এর চাহিদার কথা উল্লেখ করে মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘আমদের দেশে ত্রিশোর্ধ্ব বয়সের নরনারীর মধ্যে প্রতি ১০০ জনের ৩০ জন চোখের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে থাকেন। এ ছাড়াও প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখেরও অধিক ছানিজনিত রোগীর দেখা মেলে। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। শুধু এই সংখ্যাগুলোই মনে হয় পর্যাপ্ত আমাদের দেশে এই পেশার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে। ৩য় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশে হিসেবে এই জাতীয় সমস্যা একটি বোঝা হয়ে আসার আগেই তাই উচিত মেধাবীদের এই পেশায় নিজেকে নিয়জিত করা।’
প্রজন্মের এই চক্ষু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, নতুনদের এখন জানার সুযোগ অনেক বেশি। ফলে তাদের কাজও যথেষ্ট ভালো হচ্ছে। নতুনদের জানার আগ্রহটা সব সময় রাখতে হবে। আন্তরিকতা বাড়াতে হবে। পেশার প্রতি শ্রদ্ধা, নিষ্ঠা আর একাগ্রতা ধরে রাখতে হবে। অর্থের প্রতি বেশি না ঝুঁকে সেবার প্রতি আগ্রহ বেশি থাকা উচিত। মিনহাজুর রহমান ২ কন্যা এবং ১ পুত্রের জনক। তার স্ত্রী মিসেস কামরুন নাহার স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্ডেনের প্রধান শিক্ষিকা। বড় মেয়ে তমা রংপুর মেডিকেলে চতুর্থ বর্ষে এবং পুত্র তৌশিক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পুর কৌশল বিভাগে ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত। ছোট মেয়ে তন্বী উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। মিনহাজুর রহমান ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘যেহেতু আমি চোখ নিয়ে কাজ করি তাই আমার ইচ্ছা মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে তৌফিক দান করেন যাতে আমি আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এতটাই নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে মানুষকে চোখের সেবা দিয়ে যেতে পারি।’
ডা. মো. মিনহাজুর রহমান
ডাকনাম :মিনহাজ
জন্মতারিখ ও স্থান :০৫ ডিসেম্বর, মেহেরপুর।
মায়ের নাম :মরহুম খাদিজা বেগম
বাবার নাম :মরহুম শেখ আব্দুল কাদের
প্রথম স্কুল :মুসলিম একাডেমি, যশোর।
প্রিয় মানুষ :হযরত মুহাম্মদ (স.)
প্রিয় উক্তি :একজন সফল মানুষ থেকে মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হওয়া ভালো। (আলবার্ট আইনস্টাইন)
প্রিয় পোশাক :ফতুয়া, পাঞ্জাবি
অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে, সংবাদ দেখে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :যেকোনো কাজে নিজেকে আন্তরিকভাবে নিবেদিত রাখাই হলো সাফল্য।
===
এম হাফিজুর রহমান
ফ্যাকো সার্জন ও গ্লুকোমা স্পেশালিস্ট
খিদমাহ হাসপাতাল
আমাদের সমাজে একেক জন একেক পেশায় যোগ দিতে পছন্দ করেন। এর মধ্যে অনেকেই মানবিক সেবায় ব্রতী হয়ে নিজের ক্যারিয়ার বা কর্মজীবন গড়ে তুলতে চান। এ ধরনের পেশায় যেসব তরুণ শিক্ষার্থীর আগ্রহ আছে তারা চক্ষু চিকিত্সার ওপর পড়াশোনা করতে পারেন। এ বিষয়ে দেশেই এখন ডিপ্লোমা, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ফেলোশিপ প্রশিক্ষণ। এরই ধারাবাহিকতায় চক্ষু চিকিত্সায় মনোনিবেশ করেছিলেন এসএম হাফিজুর রহমান। বর্তমানে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি কনসাল্টেন্সি করছেন খিদমাহ হাসপাতালে। হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পেশা হিসেবে চিকিত্সক কত মহত্ একটি পেশা সেটা আজ নতুন করে বলাই বাহুল্য। আর যদি আলাদা করে বলতে হয় চোখের কথা তবে এটুকুই বলব অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মানুষকে মুক্ত করতে এর বিকল্প নেই।’ চিকিত্সা পেশার বহুমুখিতা উল্লেখ করে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সেবা যখন অঙ্গীকারে রূপান্তরিত হয়, তখন সে কাজে থাকে ভালোবাসা। এই ভালোবাসার পেছনে ছুটতে গিয়ে ভাবী চিকিত্সকেরা ভারী ভারী বইয়ে মুখ গুঁজে থাকতে পারেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তাঁরা হয়ে উঠতে চান দক্ষ থেকে দক্ষতর। চিকিত্সক জোসেফ হেনরি গ্রিনের মতো, যিনি মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তেও নিজের পালস মাপলেন। আশপাশের সবার দিকে শূন্যদৃষ্টিতে চেয়ে বললেন, ‘ওটা থেমে গেছে।’ বড় আক্ষেপ তার। তিনি চাইলেও আর পারবেন না মানুষের পালস দেখে চিকিত্সা শুরু করতে। সবাই হেনরি গ্রিনের মতো নিবেদিত হোক, চিকিত্সক দেবী শেঠীর হূদয় দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হূদয়ালয়ের মতো পুরো পৃথিবীটাই হয়ে উঠুক একটি হূদয়ালয়।
এম হাফিজুর রহমান শৈশব থেকেই চিকিত্সা পেশার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। স্থানীয় স্কুল-কলেজ থেকে এসএসসি-এইচএসসি দেওয়ার পর ভর্তি হন খুলনা মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকেই এমবিবিএস শেষ করেন। এরপর এফসিপিএস করেন চক্ষুর উপর। বিশেষ ফেলোশিপ রয়েছে তার গ্লুকোমা সার্জারির উপর। পারিবারিক জীবনে তিনি খুব সাদামাটা। তার স্ত্রী মাহবুবা নাজনীন গৃহিণী। একমাত্র সন্তান ওমর বিন হাফিজ সবে চার বছরে পা দিয়েছেন। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয়।
এসএম হাফিজুর রহমান
ডাকনাম :হাফিজ
জন্মতারিখ :৬ সেপ্টেম্বর
মায়ের নাম :মিসেস আশরাফিয়া
বাবার নাম :আব্দুল আজিজ
প্রথম স্কুল :তারুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
প্রিয় মানুষ :আমার মা
প্রিয় উক্তি :জীবনের পরের জীবনটাকে নিয়েও ভাবতে হবে।
প্রিয় পোশাক :পায়জামা-পাঞ্জাবি
অবসর কাটে যেভাবে :ইন্টারনেটে
সাফল্যের সংজ্ঞা :যেটা করছি, সেটা ঠিকমতো করতে পারাটাই সফলতা।
