পুরো নাম জেমি রবার্ট মুড়ি। ১৯৮৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেট ব্রিটেনের স্কটল্যান্ড রাজ্যে জন্ম এই প্রতিভাবান টেনিস তারকার। তার ছোট ভাই অ্যান্ডি মুড়ি।
শুরুর জীবন
জেমির জন্ম ও বেড়ে ওঠা হয় স্কটল্যান্ডের ডানব্লেন শহরে। ছোটবেলা থেকেই তার টেনিস খেলার প্রতি ছিল তীব্র আগ্রহ। তার বয়স যখন ১১, তখনই তিনি অনূর্ধ্ব ১২ ক্যাটাগরিতে রানার আপ হয়েছিলেন। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলেন প্রেস্টিজিয়াস জুনিয়ার অরেঞ্জ বোল। এর ঠিক এক বছর পরে, ১৩ বছর বয়সে তিনি জুনিয়র ক্যাটাগরি থেকে সিলেক্ট হন, দ্য লেইস স্কুলের ন্যাশনাল কোচের তত্ত্বাবধানে।
ছোটকাল থেকেই একটু একটু করে গড়ে উঠেছে তার অভিজ্ঞতা।
তিনি কেমব্রিজ মাতিয়েছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি তার ভাইয়ের সাথে মিলে পার্টনারশিপ গড়েছিলেন, জুনিয়র ইউএস ওপেন সেমি ফাইনাল গেমে।
তার দাদা, রয় এরস্কিন ছিলেন একজন প্রফেশনাল ফুটবলার। তিনি খেলতেন স্কটিস ফুটবল টিমগুলোতে।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যেমন
ব্যক্তিগত পর্যায়ে লিজেল হুবারের সাথে ডেমির সম্পর্ক বেশ ভালো। তারা আবার তাদের কর্মক্ষেত্রেও খুব ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। ২০০৭-এর ইউএস ওপেন গেমের পার্টনার ছিলেন এরা দুজন। এরপর ২০১০-এর অক্টোবরে এসে জুটি বাঁধেন অ্যালেজান্দ্রা গুটিরিজের সাথে, তবে এবার টেনিস খেলার জন্য নয়। বাস্তব জীবনে। অ্যালেজান্দ্রা পেশায় একজন ওয়েট্রেস ছিলেন।
ক্যারিয়ার
২০০৬ সাল, অংশ নেন এটিপি ডাবল ট্যুরে। এবং জুলাইয়ের শেষদিকে মুড়ি ও আমেরিকান এক খেলোয়াড় এরিক ফাইনালের জন্য পার্টনার হন। তাদের দ্বৈত এ টিমটিকে বলা হয় সেট অব ওয়ার্লড টপ-র্যাংকড টিমের মধ্যে একটি। এরপর সেপ্টেম্বরে তিনি তার ছোট ভাইয়ের সাথে টিম করে খেলতে যান ব্যাংকক টুর্নামেন্ট। সেখানে অ্যান্ডি রাম ও জোনাথান এরলিচ টিমকে হারিয়ে বিজয়ীর আসনটি ছিনিয়ে নেন।
২০০৭ সাল, ফেব্রুয়ারি মাস। এটি অ্যান্ড টি চ্যালেঞ্জার টুর্নামেন্টে তিনি ও তার এক পার্টনার মিলে তাদের প্রথম ডাবল টাইটেল দাবি করেন। তারা সেসময় সেই ট্যুরের বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর মর্ডান কেগান চ্যাম্পিয়ানশিপেও অংশ নিয়েছিলেন তারা। তার এ বিজয়ের কারণে তিনি এটিপি ডাবল র্যাংকিংয়ে ৫০তম স্থানে চলে আসেন। সে বছরেরই মার্চ মাসে গ্রেট ব্রিটেনের ডেভিস কাপের পক্ষ থেকে তার ডাক আসে। সেখানে তিনি নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ডাবল খেলেছিলেন। ডাবল গেম জেতার পর জেলেনার সাথে বহুদিন পার্টনারশিপ মেইন্টেইন করেন তিনি। উইএস ওপেন গেমে পুরো ১০ পয়েন্ট নিয়েই ফাইনালে উঠেছিলেন তারা।
২০০৮ সাল, সময়টা খুব একটা ভালো যায়নি তার। ম্যাক্সের সাথে তার পার্টনারশিপ ভালো কিছু বয়ে আনেনি তাদের জন্য। ডিলারি বিচ টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ হেরে যান তিনি। তারা টানা চার ম্যাচ খেলে পয়েন্ট তুলেছিলেন মাত্র ১। সেবছরই অনুষ্ঠিত হয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনিয় কাপ। সেখানেও একই অবস্থা ছিল তাদের। দেখা যেত, ম্যাক্সকে বাদ দিয়ে তার জেতার সম্ভবনা থাকত অনেক বেশি। সে বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত টানা পরাজয় তাদের ভাগ্যে ছিল।
এরপর তিনি সিঙ্গেল খেলার জন্য ওয়াইল্ডকার্ডের জন্য আবেদন করেন। এবং কার্ড নিয়ে তিনি একা খেলেন কোয়ালিফাইড রাউন্ডগুলোতে। হাতে হাতে ফল পেয়েছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের শেষদিকের ঘটনা সেটি। কিন্তু ফাইনালে পোল্যান্ডের সাথে ম্যাচ হেরে যান তিনি।
২০০৯ সাল, সিডনি ট্যুরে গিয়ে তার ভাগ্য ফিরে আসে। তিনি তার পুরোনো সাথিদের পেয়ে যান সেখানে। সে বছরটি ছিল তার জন্য স্বপ্নের মতো। বছরের শেষ পর্যন্ত সেই টুর্নামেন্ট নিয়ে মেতেছিলেন তিনি। ২০১০ সাল, এটিপি চ্যালেঞ্জ অনুষ্ঠিত হয় ব্রাজিলের সাউ পাওলোতে। কলোম্বিয়াতে পরাজয়ের পর এবার জিতে সেই হারের যেন প্রতিশোধ নিলেন। এবং এই টুর্নামেন্ট চলাকালে পরিচয় হয় লউরা রবসনের সাথে। ২০১০ সালের পুরোটা তার কেটেছিল সিজন জয়ের আনন্দ নিয়ে।
