আর্কিটেকচার
একটি সুন্দর ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে বাড়ি বা বিল্ডিংয়ের সৌন্দর্য। নকশা সুন্দর না হলে ভালো মেটেরিয়াল দিয়ে বাড়ি বা বিল্ডিং নির্মাণ করলেও তা ভালো দেখায় না। তাই তো মনের মতো বাড়ি বা বিল্ডিং তৈরির আগে আমরা যাই একজন আর্কিটেক্টের কাছে। তিনিই আমাদের পছন্দের ডিজাইনটি করে দেন। আর আর্কিটেক্ট পেশা হিসেবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনেক পছন্দনীয় ও জনপ্রিয়। নিজেদের মেধা এবং মননকে কাজে লাগিয়ে এই সেক্টরে সফল হয়েছেন এমনই একজনের কাছে জানব এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে তার পরামর্শ।
যেকোনো ডিজাইনের প্ল্যানিংয়ের জন্য আপনার প্রস্তুতি কী রকম থাকে জানতে চাইলে মো. আবদুল হাই বলেন, ‘যেকোনো ডিজাইন করার আগে চিন্তা করতে হবে আমি কী ডিজাইন করছি। সেই বিষয় সম্পর্কে আমার জানার কোনো কমতি আছে কি না। ডিজাইনের ওপর অনেক বই আছে প্রয়োজনে এগুলোর শরণাপন্ন হই। কখনও কখনও সিনিয়রদের সহযোগিতা নিই। আর এখন তো ইন্টারনেট থেকে যেকোনো ধরনের তথ্য পাওয়া যায়।’ আমাদের দেশে এই পেশা কতটা জনপ্রিয় জানতে চাইলে এই প্রতিভাবান আর্কিটেক্ট বলেন, ‘আমাদের দেশে এই পেশাটা দিন দিন অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আমরা এখন দেখতে পাই, কোনো ব্যক্তি তার বাড়ির ডিজাইন করার জন্য কোনো না কোনো আর্কিটেক্টের কাছে যান। যা আগে খুব কম হতো। এমনকি অনেকে জানতেনই না যে আর্কিটেকচার বলে কিছু আছে। কিন্তু এখন সামান্য একটা ড্রয়িংরুমের ইন্টেরিয়রের জন্যও আর্কিটেক্টের কাছে যায় লোকজন। তাই বলা যায়, এই পেশা আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।’ নতুন যারা এই পেশায় আসছে তাদের কাজ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন অনেক ইউনিভার্সিটিতে আর্কিটেকচার বিভাগ আছে এবং সবাই ভালো করার চেষ্টা করছে। যারা নতুনভাবে এই পেশায় আসছে তারা সবাই নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করছে। এখন নতুনরা অনেক সুন্দর সুন্দর কাজ করছে। নতুনদের এই পেশায় ভালো করার জন্য আমার পরার্মশ হলো—তাদের উচিত অন্তত দুই বছর কোনো সিনিয়র আর্কিটেক্টের সাথে কাজ করা। এর আগে স্টুডেন্ট প্রজেক্টগুলো ভালোভাবে করা। সবসময় সিনিয়র আর্কিটেক্টদের কাছ থেকে কাজের কৌশল শিখে নেওয়ার চেষ্টা করা।’
মো. আবদুল হাই
সিনিয়র আর্কিটেক্ট,
ডমিনেইজ গ্রুপ
---
আইটি
তথ্যপ্রযুক্তি বলতে কোন একটি প্রজাতির বিভিন্ন যন্ত্র এবং প্রাকৃতিক উপাদান প্রয়োগের ব্যবহারিক জ্ঞানকে বোঝায়। নিজের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে প্রজাতিটি কেমন খাপ খাওয়াতে পারছে এবং তাকে কিভাবে ব্যবহার করছে তাও নির্ধারণ করে প্রযুক্তি। সমাজে প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞান এবং প্রকৌশলের একটি আবশ্যিক ফলাফল। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের এ যুগে প্রজন্মের কাছে আইটি বিষয়ক যেকোনো পেশাই তুমুল জনপ্রিয়। কেননা দিন দিন তথ্য প্রযুক্তি ক্রমবিকাশের কারণে অনেক কঠিন কাজ সহজ থেকে সহজতর হয়ে উঠছে। তাই এবার এ পেশার সফল একজনের কাছ থেকে জানব এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে তার পরামর্শ।
তাসলিমুল হক সেই সৌভাগ্যবানদের একজন। যার হাত ধরে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে আইটি সেক্টর। ১৯৮৩ সালের দিকে আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংকে যোগ দেন তাসলিমুল হক। তারা কয়েকজন মিলে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় গড়ে তোলেন স্বতন্ত্র আইটি বিভাগ। ব্যাংকের আর সব কর্মকর্তাদেরও তখন কম্পিউটারে কাজ করতে বলা হলো। শুরুতে সবাই হোঁচট খেলেও পরবর্তীতে তারা কম্পিউটার ছাড়া অচল হয়ে যান একদম। আর সম্পূর্ণ কম্পিউটার নির্ভর ব্যাংক হিসেবে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক। বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম অনেক আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসছে আইটি ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য। তাদের মাঝে অনেক উত্সাহ দেখছেন তাসলিমুল হক। তারা যে খুব ভালো করবে, এমনটা প্রত্যাশা করা যায়। তাদেরকেও সরকারের সুযোগ করে দিতে হবে। পে-পার অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক ফ্রিল্যান্সরা তাদের ন্যায্য সম্মানী হাতে পেতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, তাসলিমুল হক বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত এ সেবা চালু করার জন্য পরামর্শ দেন। নতুনদের উদ্দেশে তাসলিমুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন কাজ করার অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেখানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে নিজেদের মেধাটা শানিত করে নেওয়া যায়। আর সেই সাথে পরিবর্তিত বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে চলতে হবে। তাহলেই কেবল ভবিষ্যতে সফল একজন আইটি ব্যবস্থাপক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা সম্ভব।’
তাসলিমুল হক
ডিজিএম, হেড অব আইটি, ব্যাংক আল-ফালাহ লি.
