রেলওয়ের জমিতে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৪
বাংলাদেশ রেলওয়ের চারটি হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত করিবার সিদ্ধান্ত হইয়াছে। হাসপাতালগুলি হইলো সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল, পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল, চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতাল ও ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতাল। ইহাছাড়া রেলওয়ের অব্যবহূত জমিতে নার্সিং ইন্সটিটিউট নির্মাণ করিবারও পরিকল্পনা হইয়াছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তিন হাজার ছয়শো কোটি টাকার প্রয়োজন পড়িবে। সরকারি রাজস্ব অর্থায়নে এতবড় প্রকল্পের অর্থায়ন সম্ভব নয়, তাই পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হইয়াছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হইলে রেলওয়ের কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের চিকিত্সাসেবা প্রাপ্তির সুযোগ কিছুটা বৃদ্ধি পাইবে নি:সন্দেহে। সরকারের এই সিদ্ধান্তটিকে আমরা স্বাগত জানাই। বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব জমির পরিমাণ এখনও যথেষ্ট রহিয়াছে এবং অব্যবহূত জমি সদ্ব্যবহার করিয়া মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইন্সটিটিউট স্থাপন সাধু উদ্যোগ। বিপুল জনগোষ্ঠীর এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই দরিদ্র। আধুনিক চিকিত্সা আমাদের দেশের সিংহভাগ মানুষের কাছে নক্ষত্র দূরত্বের মতো। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের কাছেও চিকিত্সাসেবা খুব সহজলভ্য নহে। সামর্থ্যবান জনগোষ্ঠীর অনুপাতে চিকিত্সক ও হাসপাতালের সংখ্যা একটি মধ্যম আয়ের দেশের তুলনাও নিম্নতর। বাঞ্ছিত অনুপাত নিশ্চয় রাতারাতি হইয়া যাইবে না। আমরা অল্প অল্প করিয়া তাহার উন্নয়ন ঘটাইতেছি। আমাদের জনসংখ্যা বাড়িতেছে দিন দিন। এই জনসংখ্যা যাহাতে আমাদের বোঝা না হয়, তাহারা যাতে ন্যূনতম জনশক্তিরূপে গড়িয়া ওঠে, তাহার দিকে পরিকল্পিত দৃষ্টি রাখিতে হইলে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিও সামনে চলিয়া আসে। যেইহেতু জনশক্তির সহিত সম্পৃক্ত রহিয়াছে দেশের আপামর উন্নয়ন, সুতরাং আধুনিক চিকিত্সাব্যবস্থার দিকেও যে কোনো উপায়ে নজর দিতে হইবে। তাহা ছাড়া আমাদের শিক্ষার্থীদের একটি বৃহত্তর অংশের আকাঙ্ক্ষিত শিক্ষাক্ষেত্র হিসাবেও চিকিত্সক শাস্ত্র অতি জনপ্রিয়। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও চিকিত্সকদের কদর আকাশচুম্বী। আমাদের নিজেদের অপর্যন্ত চিকিত্সক থাকা সত্ত্বেও অনেক উন্নয়নশীল দেশে এই দেশেরই পাস করা চিকিত্সকদের চাহিদা রহিয়াছে। অপরদিকে এই বিষয়টির জন্য যেই পরিমাণ জনপ্রিয়তা ও ভর্তিচ্ছু যোগ্য শিক্ষাপ্রার্থী রহিয়াছে, সেই তুলনায় আমাদের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা নগণ্য বলা যায়। তাহাছাড়া এ দেশের ক্রমবর্ধমান আপামর জনগোষ্ঠীর নিকট কমমূল্যে চিকিত্সাসেবা পৌঁছাইয়া দেওয়ার ভাবনাটি যেকোনো জনবান্ধব সরকারের অগ্রাধিকারমূলক বিবেচনায় থাকিবার কথা। তাই আরও চারটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের ফলে যেমন বেশকিছু চিকিত্সককে আমরা পাইবো তেমনি আরও কিছু সাধারণ মানুষের চিকিত্সাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত হইলো। রেলওয়ে হাসাপাতালগুলি শহরগুলির কেন্দ্রে অবস্থিত, তাই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হইলে ইহা হইতে রেলওয়ের আয়ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইবে। ভালো হইতো যদি এই মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইন্সটিটিউটগুলির ব্যয়ভার সরকার নিজেই পুরোপুরি বহন করিতে পারিতো। প্রস্তাবিত বেসরকারি অংশীদারিত্বের কারণে চিকিত্সাসেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলিয়া যাইবার একটা ঝুঁকি থাকিয়া যাইতেছে। আমাদের অনেক শুভ উদ্যোগই অঙ্কুরেই স্তব্ধ হইয়া যায়। এই উদ্যোগটি যাহাতে জনসাধারণের সত্যিকারের কল্যাণে কাজে লাগে সেই জন্য চিকিত্সাব্যয় ন্যূনতম রাখিবার দিকে সরকারকেই লক্ষ্য রাখিতে হইবে।