গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দু’ছেলেসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার সকালে গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ জিএস ও ঠিকাদার আল হুসাইন মামুন এ অভিযোগ করেন। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজামিয়া বাটুর ছেলে ও শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান ডিগল সোমবার বিকেল ৪টায় প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই সাইটে আমাদেরও ১ কোটি ১১ লাখ টাকার মাটি ভরাটের কাজ চলছে। মামুনের সাইটের ড্রেজার দিয়ে মাটি ভরাটের কাজ মামুনের সাব-ঠিকাদার হেলাল ২৭ দিন বন্ধ রাখে। এ বাবদ ড্রেজারের মালিক মোঃ বশির শেখ হেলালের কাছে চুক্তি মোতাবেক ক্ষতিপূরণের ৯ লাখ টাকা দাবি করে। এ টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। গত ২৪ আগষ্ট ড্রেজারের মালিক বশির ড্রেজার বন্ধ করে দেয়। ড্রেজারের পাওনা টাকা দেয়ার জন্য আমি মামুনের পার্টনার লিখনকে অনুরোধ করি। অথচ আমাদের নামে মামুন থানায় মিথ্যা জিডি দায়ের করেছে। আমাদের সামজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্যই মামুন মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আল হুসাইন মামুন বলেন, শহরতলীর হরিদাসপুরে প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় সম্প্রসারিত বিসিক শিল্পনগরীর বালু ভরাটের ১ কোটি ১১ লাখ টাকার কাজ গত ২১ মার্চ থেকে শুরু করি। সেখানে বালু ভরাটের কাজ চলার সময় গত ২৪ আগষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজামিয়া বাটুর দুই ছেলে মাসুদুর রহমান বুলগান ও শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ডিগল ২০/৩০ জন লোক নিয়ে এসে ড্রেজার বন্ধ করে ও ডুবিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা আমাকে ও আমার সহকারী মিলন মুন্সিকে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ মামলা না নিয়ে রহস্যজনক কারণে জিডি হিসেবে গ্রহণ করে।
ড্রেজারের মালিক মোঃ বশির মোল্লা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কাজ বন্ধ রাখলে প্রতিদিন ৩৩ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য হেলালের সাথে চুক্তিবদ্ধ হই। সাইটের অন্যান্য কাজের জন্য পরপর ৩ দিন কাজ বন্ধ থাকলে ক্ষতিপূরণ নেয়া হয় না। কিন্তু টানা ২৭ দিন কাজ বন্ধ রাখার পর আমি ক্ষতিপূরণের ৯ লাখ টাকা দাবি করি। টাকা দিতে গড়িমসি করায় আমি কাজ বন্ধ করে দেই। ডিগল টাকা দিয়ে দেয়ার কথা বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ডিগল ও তার ভাই বুলগানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন। ডিগল আমার পাওনা টাকা চাওয়ায় আল হুসাইন মামুন উল্টো চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে। মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে তার পিতা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজা মিয়া বাটুর পরিবারকে হেয় করার চেষ্টা করছে।
