মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিতদের ওপর পদপ্রাপ্তদের হামলার ঘটনাকে ছোট ও সাধারণ আখ্যা দেওয়ায় আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের কড়া সমালোচনা করেছেন পদবঞ্চিত শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নিপু ইসলাম তন্বী। তিনি বলেন, আর কতটুকু লাঞ্ছিত হলে তাদের মনে হতো যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নারীদের ওপর নির্যাতন হয়েছে? প্রশ্ন ওঠে- আমরা মারা গেলে কি সত্যতা প্রমাণ হতো যে এখানে একটি বিশাল ঘটনা ঘটেছে? গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক মানববন্ধনে এ সমালোচনা করেন তিনি। বিতর্কিত কমিটির প্রতিবাদে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে বোনদের ওপর নির্মম হামলা ও শারীরিক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। যারা নিজেদেরকে সক্রিয় বলে দাবি করেন। মানববন্ধনে আন্দোলনকারীরা ‘জামাত-শিবির ছাত্রদল অনুপ্রবেশকারীদের কমিটি মানি না’, ‘আমাদের বোনদের ওপর হামলা কেন বিচার চাই বিচার চাই’, ‘অবৈধ কমিটি মানি না’, ‘অছাত্রদের আদু ভাইদের কমিটি মানি না’, ‘ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কৃতদের কমিটি মানি না’, ‘বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগে অছাত্রদের স্থান নেই’, ‘চাকুরীজীবী ব্যবসায়ীদের কুটিল কমিটি মানি না’ লিখিত ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।
বিতর্কিতদের তালিকা প্রকাশের ঘোষণা: ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে যারা বিতর্কিত তাদের তালিকা প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে পদবঞ্চিতরা। তারা বলছেন, ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যেসব অপরাধী, বিতর্কিত ও বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই তালিকা প্রকাশ করা হবে। এদিকে সোমবার পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ মিছিলের নারী নেত্রীদের লাঞ্ছনার ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয় । তদন্ত কমিটির অগ্রগতির বিষয়ে কমিটির প্রধান ও নব কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটির ফল প্রকাশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
বিতর্কিত ১৫ জনের নাম কালি দিয়ে কেটে দিলেন শেখ হাসিনা
গণভবন সূত্রে জানা গেছে, শোভন-রাব্বানীর সঙ্গে কথা বলার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে একান্তে আলাপ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ তালিকায় থাকা ১৫ জন বিতর্কিত নেতার নাম কালি দিয়ে চিহ্নিত করে তাদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তালিকায় যদি আরো কোনো বিতর্কিত নেতা থাকেন খোঁজ-খবর নিয়ে তাদেরকেও বাদ দিতে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
