উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাধা দেয়ায় পাবনায় কলেজ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে বহিরাগত কতিপয় সন্ত্রাসী। মঙ্গলবার এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, ১২ মে দুপুর দুইটা। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান। কলেজের মূল ফটকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতর্কিতে হামলা করে তাকে পেটাতে শুরু করে একদল যুবক। ছবিতে কলেজ সভাপতি শামসুদ্দীন জুন্নুনকে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে দেখা গেছে। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ তো দূরের কথা নিরপত্তাহীনতায় ঘর থেকেই বের হচ্ছেন না শিক্ষক মাসুদুর রহমান।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মাসুদুর রহমান বলেন, ৬ মে তারিখে কলেজের ১০৬ নম্বর কক্ষে উচ্চতর গণিত পরীক্ষায় ইনভিজিলেটরের দায়িত্ব ছিল। এ সময় দুজন পরীক্ষার্থী (ছাত্রী) দেখাদেখি করায় তাদের সতর্ক করার পরেও তারা বিরত না হলে, কিছু সময়ের জন্য খাতা জব্দ করে রাখায় তারা ক্ষুব্ধ হয়। ১২ মে তারিখে বাড়ি ফেরার সময় বহিরাগত সন্ত্রাসীরা তাকে কিল, ঘুষি, লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। পরে শিক্ষকরা উদ্ধার করেন। মাসুদুর আরো বলেন, ঘটনার পর তিনি ভয়ে থানায় অভিযোগ করারও সাহস পাননি।
৩৬ তম বিসিএস এর শিক্ষক মাসুদুর বলেন, তাকে মারধোরের পর ঘটনা আড়াল করতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌন হয়রানির কথা বলা হচ্ছে। লাঞ্ছিতের ঘটনার পর মাসুদুর বিরুদ্ধে এক পরীক্ষার্থীকে দিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনা সমগ্র শিক্ষক সমাজের জন্য অপমানের। তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান, সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ চান অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি নেয়া হবে।
সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুন বলেন, শিক্ষক মাসুদুরের উপর বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করলে তারা প্রতিরোধ করে সন্ত্রাসীদের বের করে দেন।
কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, শিক্ষকদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। শিক্ষকদের অভিযোগ কেবল মাসুদুর নয়, ইতিপূর্বে একাধিক শিক্ষক ছাত্রলীগ নামধারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হলেও ভয়ে মুখ খোলেন নি তারা। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে এসব ঘটনার বিচার দাবী করেছেন শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ইত্তেফাক/আরকেজি
