ফেনসিডিল মামলায় সহকারী জজের ৪ বছর কারাদণ্ড

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৬
ফেনসিডিল বহনের দায়ে ভোলার জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ (সাময়িক বরখাস্ত) জাবেদ ইমামকে চার বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন গতকাল মঙ্গলবার জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন জাবেদ ইমাম। রায়ের পরপরই তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। জাবেদের আইনজীবী গোপাল চন্দ্র সাহা ও এটিএম ফিরোজ হোসাইন বলেন, এ রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। মামলার কোন সাক্ষিই তাদের সাক্ষ্যে এ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাবো। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এস এম জাহিদ সরদার বলেন, সমস্ত সাক্ষির সাক্ষ্য ও তথ্য উপাত্ত চুল চেরা বিশ্লেষণ করে এ আসামিকে এ দণ্ড দেয়া হয়েছে। এ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যে ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে সেই ধারার বদলে বিচারক অন্য ধারায় কম শাস্তি দিয়েছেন। জাবেদ ইমাম ঝিনাইদহ শহরের সিদ্দিকিয়া সড়ক ওয়্যারলেস পাড়ার বাসিন্দা খালিদ ইমামের ছেলে। ২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনকারী এই বিচারক ২০০৮ সালে সহকারী জজ হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। গত বছর নভেম্বর মাসে তাকে যশোর থেকে ভোলায় বদলি করা হয়েছিল। গত বছরের ৮ নভেম্বর তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছিলেন। প্রসঙ্গত গত বছরের পহেলা ডিসেম্বর রাজধানীর ইডেন কলেজের সামনে থেকে ফেনসিডিলসহ জাবেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়। ওই সময় এই সহকারী জজ ফেনসিডিল বহনের কথা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু অপরাধ প্রমাণের পূবেই তাকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করার অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ সালাম। একইসঙ্গে তাদেরকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়। পরে হাইকোর্ট ওই আদেশ স্থগিত করে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রাজধানীর নিউ মার্কেট থানাধীন রাফিন প্লাজার সামনের ফুটওভার ব্রিজের নিচে রাস্তার ওপর একটি মাইক্রোবাস আটক করে পুলিশ। মাইক্রোবাসের চালক চ্যালেঞ্জ করার পর তার শরীর তল্লাশি করে কোমরে একটি পিস্তল পায় পুলিশ। পিস্তলটি চালকের লাইসেন্স করা। পিস্তলটি হেফাজতে নেয়ার পর আটক চালক স্বীকার করেন, তার মাইক্রোবাসে ভারতে তৈরি অবৈধ ফেনসিডিল আছে। পরে মাইক্রোবাস তল্লাশি করে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ও মাইক্রোবাসের সিটের ভেতর থেকে মোট ৩৪২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এরপর চালক নিজের পরিচয় দেন তিনি জাবেদ ইমাম। এ ঘটনায় ওই দিনই নিউ মার্কেট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন এসআই নূর হোসেন। পরে নিউ মার্কেট থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জাবেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম। অভিযোগপত্রে বলা হয়, জাভেদ ইমাম ফেনসিডিল বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ দখলে রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অপরাধ করেছেন। মামলা হওয়ার পরপরই সরকারি চাকরি থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।