ফেনীর সোনালী ব্যাংক মহিপাল শাখায় ২০১১ সালে সংঘটিত সাত কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ওই শাখার নিয়ন্ত্রণকারী ফেনী আঞ্চলিক কার্যালয়ের সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপকসহ ছয় কর্মকর্তাকে নোটিস প্রদান করেছে দুর্নীতি দমন ব্যুরো দুদক।
সোনালী ব্যাংক ও নোয়াখালী দুদক সূত্র জানায়, নোয়াখালী দুর্নীতি দমন ব্যুরোর থেকে গত ২২ আগস্ট এক চিঠিতে সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপকসহ (ডিজিএম) আজাদ কামাল, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মহিউদ্দিন চৌধুরী, নির্বাহী অফিসার খাজা গিয়াস উদ্দিন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার পেয়ার আহমদ, মিনতি রানী ও অফিসার জামাল উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে ওই ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে আগামী দুই ও তিন সেপ্টেম্বর দুদক নোয়াখালী ব্যুরো কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব প্রদান করতে বলা হয়েছে। দুদক জানায়, ব্যাংক থেকে নথিপত্র পেয়ে ঋণ জালিয়াতির ঘটনা যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এরপরই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
সোনালী ব্যাংক সূত্র জানায়, মহিপাল শাখায় ২০১১ সালে এসএমই খাতে ঋণ বিতরণের বরাদ্দ ছিল চার কোটি টাকা। মাত্র তিন মাসেই এ ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চার কোটি টাকা ছাড়িয়ে সাত কোটি টাকায় পৌঁছায়। নির্দিষ্ট বরাদ্দের বাইরে ঋণ প্রদান করতে হলে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে বরাদ্দ চেয়ে নিতে হয়। এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। পরবর্তীতে ওই শাখা থেকে কথিত ১৬৫টি ঋণ হিসাবের বিপরীতে প্রায় সাত কোটি টাকা লোপাট হয়ে যায়। এরই মধ্যে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় মহিপাল শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক আবুল কাশেমকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপক আবুল কাশেমসহ ৭৪ জন ভুয়া ঋণ গ্রহীতার বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। ফেনী মডেল থানা পুলিশ ওই অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসাবে রেকর্ডভুক্ত করে নোয়াখালী দুদকের নিকট পাঠিয়ে দেয়।
