সন্দেহাতীতভাবে সিরিয়া রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে:জো বাইডেন

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৩, ২১:০৯
বিদেশি বাহিনী কর্তৃক আক্রান্ত হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে সিরিয়া। এদিকে সন্দেহাতীতভাবে সিরিয়া সরকার বিরোধীদের উপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল মুয়াল্লেম বলেছেন, তার দেশ যদি আক্রান্ত হয় তাহলে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করে দামেস্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বক্তব্য দেন। সামপ্রতিক সংকট নিয়ে দামেস্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবার পর সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল মুয়াল্লেম বিবিসি অ্যারাবিককে ইংরেজি ভাষায় একটি সাক্ষাত্কার দেন। সেখানে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, যেসব দেশ বলছে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তারা পারলে তাদের জনগণের কাছে প্রমাণ দেখাক। ওয়ালিদ আল মুয়াল্লেমের এসব বক্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় সামরিক অভিযানে প্রস্তুতি সম্পন্ন করবার ঘোষণা দেবার পর। মার্কিন বাহিনী এখন অপেক্ষা করছে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্দেশের। হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে চলতি সপ্তাহেই একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে তারা। ইতিমধ্যে সিরিয়া সংকটে ব্রিটেনের ভূমিকা কি হবে সেই প্রসঙ্গে ভোটাভুটির জন্য আগামীকাল দেশটিতে পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন, রাশিয়া ও ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ঘটনাপ্রবাহ যেদিকে যাচ্ছে তাতে হয়তো বিষয়টি শুধু সিরিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পুরো অঞ্চলকেই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবে। এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারই সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। বাইডেন মঙ্গলবার হিউস্টনে বলেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রের পৈশাচিক ব্যবহার কে করেছে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই— আর সেটি হলো সিরিয়ার শাসক গোষ্ঠী। গত কয়েকদিন ধরে মার্কিন কর্মকর্তারা যখন বারবার সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর কথা বলছেন তখন বাইডেন নতুন করে এই অভিযোগ তুললেন। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে রাজধানী দামেস্কের উপকণ্ঠে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সেনাবাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ওই হামলায় কয়েকশ’রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। অবশ্য সিরিয়ার সেনাবাহিনী এই রাসায়নিক হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ জোরালো ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে।