সচিব পদমর্যাদায় আরো অর্ধশতাধিক পদ

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০০
জনপ্রশাসনে বঞ্চিতদের পদোন্নতি, অর্ধশতাধিক দ্বিতীয় গ্রেডের (বেতন স্কেল অনুযায়ী) পদের মান উন্নয়ন করে গ্রেড-১ ভুক্ত করা এবং এসব পদে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সচিব পদমর্যাদা দেয়া হবে। এছাড়া গত জুলাই থেকে কার্যকর করে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘভাতা দেয়া হবে। শিগগির এসব সুযোগ-সুবিধা ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব সুযোগ-সুবিধাকে অনেকে ‘নির্বাচনী উপহার’ বলে গণ্য করছেন। তবে সরকারি কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব গত সোমবার মন্ত্রিসভায় নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম ইত্তেফাককে বলেন, যেসব পদ গ্রেড-২ রয়েছে সেগুলোকে গ্রেড-১ এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বঞ্চিতদের পদোন্নতি ও মহার্ঘভাতা দেয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করতে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) গত সোম ও মঙ্গলবার বৈঠক করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুস সোবহান সিকদার ইত্তেফাককে জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনের অধিদপ্তর, দপ্তর বা সংস্থার প্রধান পদটিকে গ্রেড-১ এ উন্নীত করার কাজ প্রায় শেষ। যে কোন সময় এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। সূত্রমতে, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির অনুমোদন করেছেন। শিগগির রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সচিব পদমর্যাদার নতুন পদগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিতে পারেন। আব্দুস সোবহান সিকদার বলেন, অকারণ কাউকে পদোন্নতি বঞ্চিত করা হচ্ছে না। যাদের বেঞ্চমার্কসহ প্রাসঙ্গিক সব যোগ্যতা আছে, তাদের সবাইকেই পদোন্নতি দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, জনপ্রশাসনে ইতিমধ্যে ৯টি সিনিয়র সচিবের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশেও সাতটি পদকে গ্রেড-১ ভুক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদেরও মান উন্নয়ন করা হচ্ছে। জেসিওদের পদকে দ্বিতীয় থেকে প্রথম এবং সার্জেন্ট ও সমমানের পদকে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় করা হচ্ছে। সৈনিক থেকে মেজর পর্যন্ত ১২টি পদের অবসরের বয়সও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে জনপ্রশাসনে ৬৮টি সচিবের পদ রয়েছে। কিন্তু দেড় শতাধিক অতিরিক্ত সচিব বা অতিরিক্ত সচিবের পদমর্যাদা সম্পন্ন কর্মকর্তা রয়েছেন যাদের পদের মান উন্নয়ন না করলে তাদের মধ্যকার যোগ্য অনেক কর্মকর্তাই সচিব হওয়ার স্বাদ পাবেন না। এসব বিবেচনায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তরের প্রধান-এর পদকে সচিব পদমর্যাদায় উন্নীত করা হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সচিব পদের জন্য দাবি জোরালো হচ্ছে। এজন্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উইংয়ের প্রধান কর্মকর্তার পদকেও সচিব পদমর্যাদায় উন্নীত করার চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অনুসরণ করা হতে পারে। সেখানে পুলিশের আইজি আছেন চারজন। আবার প্রশাসনেও দায়িত্ব ভেদে সচিব রয়েছেন। সূত্র জানায়, এ কাজ করার পর ১৯৮২ ব্যাচের বেশ কয়েকজন সচিবকে আবার সিনিয়র সচিব করা হতে পারে। যেসব অধিদপ্তর বা সংস্থা প্রধানের পদ গ্রেড-১ ভুক্ত করে সচিব পদমর্যাদায় উন্নীত করা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি, শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি, খাদ্য অধিদপ্তরের ডিজি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, বিসিআইসির চেয়ারম্যান, রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের চেয়ারম্যান ইত্যাদি। উল্লেখ্য, গত ৩ জুন রাজধানীর একটি হোটেলে সিভিল সার্ভিস চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিভিন্ন পদ মান উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ সভায় ২৭ ক্যাডার কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রশাসন ক্যাডারে সিনিয়র সচিব, পুলিশে গ্রেড-১ ভুক্ত সাতটি পদ করা হয়েছে, কিন্তু অন্যান্য ক্যাডারের ক্ষেত্রে বিষয়টি নজর রাখা হয়নি। বেতন স্কেল অনুযায়ী পদমর্যাদা নির্ধারণের দাবি করেছিলেন তারা। এ সময় অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন।