বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা অর্থ ফেরত প্রসঙ্গে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, কোকোর পক্ষ নিয়ে বিএনপি এখন দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আর এ কারণেই বুধবার তারা সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন।
বুধবার ধানমণ্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। মূলত মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের জাবাব দেয়ার জন্যই এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, এই বক্তব্য নেতাকে বাঁচানোর অপকৌশল। কোন তথ্য ছাড়াই বিএনপি নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে বলেও জানান তিনি। এ সরকারের আমলেই কোকোর প্রচার করা আরো অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি
মামলা ও তদন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা হয়েছে দাবি করে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, এর সঙ্গে রাজনীতি বা সরকারের কোন সম্পর্ক নেই। সিংগাপুরের আদালতে কোকোর পাচার করা অর্থের প্রমাণ মিলেছে। আর সেই সময় সরকারকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী তারা দুদকের কাছে অর্থ ফেরত পাঠিয়েছে। আর এর মাধ্যমে আবারো প্রমাণ হয়েছে, বিএনপি আমলে সরকারের ভেতর সরকার তৈরি করে (হাওয়া ভবন) সীমাহীন দুর্নীতি করা হয়েছে। ওই সময় টেন্ডার বাণিজ্য, দুর্নীতি এতটাই হয়েছিল যে, ওই দুর্নীতি একটা ধারাবাহিক অংশ হিসেবেই সিংগাপুর থেকে অর্থ ফেরত এসেছে। এর মাধ্যমে আবারো প্রমাণ হয়েছে, বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির সকল অভিযোগ সঠিক ছিল।
মাহবুব-উল-হানিফ বলেন, বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন তারেক-কোকোকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এক তরফাভাবে বিচারকার্য চালানো হয়েছে। অথচ প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, আদালত থেকে বার বার বলা সত্ত্বেও তারা কেউ আদালতে আসেননি। কারণ তারা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণিত করতে পারবে না বলে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে আত্মগোপন করে আছে। তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। এই টাকা ফেরতের মাধ্যমে তাদের দুর্নীতি আবারো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই ধরনের কোম্পানি খুলে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছে তারেক রহমান। যে মামলা বারবার বাধ্যাগ্রস্ত করে বিচার বিলম্ব করা হচ্ছে।
এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দিপু মনি, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভুঁইয়া ডাবলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
