সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপারস ওনার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (নোয়াব) বুধবার অষ্টম ওয়েজবোর্ড সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৬ মে ২০১২ তারিখ সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াবের সদস্যদের সভাতে তিনি কর্মীদের আয়করসহ সংবাদপত্রে সুবিধা-অসুবিধাগুলোকে বিশেষভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সংবাদপত্র শিল্পের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতিশীল মনোভাবে উত্সাহিত হয়েই সরকার গঠিত ৮ম ওয়েজবোর্ডে নোয়াবের প্রতিনিধি হিসাবে আমরা কয়েকজন বিভিন্ন সভাতে অংশ নিয়েছি।
কিন্তু অষ্টম ওয়েজবোর্ডের চেয়ারম্যান নোয়াবের পক্ষের ওয়েজবোর্ডের সদস্যদের সম্মতি না নিয়ে শুরুতেই ৫০% মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করেন। এরপর আবারও মাননীয় তথ্যমন্ত্রীর কাছে অষ্টম ওয়েজবোর্ডের চেয়ারম্যান অষ্টম ওয়েজবোর্ড বেতন কাঠামো জমা দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে কেবিনেট মিটিংয়ে নীতিগতভাবে তা গৃহীতও হয়েছে, যা গণমাধ্যমে সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
কিন্তু ওয়েজবোর্ডের চেয়ারম্যান তথ্যমন্ত্রীর কাছে এসে কী উপস্থাপন করলেন, তার কিছুই আমরা জানি না। ওয়েজবোর্ডের পক্ষে কোনো প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করার আগে তা সদস্যদের জানানো, একবার চূড়ান্ত আলোচনা করা নিয়মের মধ্যে পড়ে এবং তা সদস্যদের অধিকারও বটে। এভাবে ওয়েজবোর্ডের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এককভাবে রোয়েদাদ ঘোষণা একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৪৪, ১৪৫ ও ১৪৬ ধারা বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, চেয়ারম্যানকে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার দেয়া হয়নি। সবক্ষেত্রেই সমন্বিত সিদ্ধান্তের বিষয়টিই এসেছে। বোর্ডকে অধিকার দিয়েছেন, একক কাউকে নয়। সাংবাদিকপক্ষ ও আমরা মালিকপক্ষ একমত হতে না পেরে ওয়েজবোর্ডের চেয়ারম্যানকে সবার পক্ষে একটি প্রস্তাব তৈরি করতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, আমাদের সঙ্গে সভা না করে বা না জানিয়ে বোর্ডে কোনো আলোচনা না করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবেন।
এভাবে অষ্টম ওয়েজবোর্ডের সদস্যদের সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে বা না জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। চূড়ান্ত প্রস্তাবগুলো আমাদের জানানো হচ্ছে না। এতে করে ওয়েজবোর্ডের কোনো কার্যকারিতা থাকে না। এটা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিও নয়।
অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের সুপারিশ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে আমরা আমাদের বিস্তারিত মতামত লিখিতভাবে জানিয়েছি। তারপরও আমাদের কোনো মতামত বা যুক্তি বিবেচনায় না নিয়েই সরকার অষ্টম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণা করতে যাচ্ছে বলে জেনেছি। এভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া যুক্তিসঙ্গত হচ্ছে না।
এমনিতেই সংবাদপত্র শিল্প এখন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কাস্টম ডিউটি ৩% থেকে বৃদ্ধি করে এবার বাজেটে ১০% করা হয়েছে। এর ফলে সংবাদপত্রের বিপুল পরিমাণে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার আমরা জানতে পেরেছি, সরকারি বিজ্ঞাপনের হার অর্ধেক করার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে এবং করপোরেশনের বিজ্ঞাপনগুলোও সরকারি রেটে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ও তা বাস্তবায়ন করছে।
সামগ্রিকভাবে সরকারের এই মনোভাব সংবাদপত্র শিল্পের বিকাশের জন্য শুভ হবে না। তাই সংবাদপত্র শিল্পের বিষয়ে যেকোনো, বিশেষ করে ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নোয়াবের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য অনুরোধ করবো।
সংবাদপত্র শিল্পের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিমালিকানাধীন। অন্যান্য ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মতো নিজেদের মতো করে বেতন-কাঠামো নির্ধারণ করার অধিকার আমাদের দেয়া হয়নি। যদিও যৌক্তিক না তারপরও এ পর্যন্ত সরকার ঘোষিত ওয়েজবোর্ড আমরা মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছি। এবারও তা করতে চাই। তবে সেই ওয়েজবোর্ডের সুপারিশ আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থির করতে হবে।
একইসঙ্গে নিউজপ্রিন্টের উপর কাস্টম ডিউটি কমিয়ে ০% করা, সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্য বৃদ্ধি করা, সরকারি বিজ্ঞাপনের পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং সরকারি বিজ্ঞাপনের বিল দ্রুত পরিশোধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিবৃতিদাতারা হচ্ছেন মাহবুবুল আলম, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এএমএম বাহাউদ্দিন, মাহফুজ আনাম, একে আজাদ, মতিউর রহমান চৌধুরী, মোজাম্মেল হক, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, মতিউর রহমান, এএসএম শহিদউল্লাহ্ খান, এমএ মালেক, মোয়াজ্জেম হোসেন, তসলিম উদ্দিন চৌধুরী ও আলতামাস কবীর।
