দিনাজপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৬
শহরের বালুয়াডাঙ্গা এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তোফাজ্জল হোসেন (৩০) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন হয়েছেন। একটি হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি খুন হন। তোফাজ্জল দিনাজপুর পৌর এলাকার ১০ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। জানা যায়, বালুয়াডাঙ্গা এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। এই বিরোধের জের ধরে ৬ মাস আগে প্রতিপক্ষের হামলায় রানা নামে এক যুবক খুন হন। তোফাজ্জল এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। রানা হত্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে যাচ্ছিলেন তোফাজ্জল। পথিমধ্যে প্রতিপক্ষের ১২/১৫ জন তাকে চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তোফাজ্জল পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গা মহল্লার মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে। বালুয়াডাঙ্গায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। রায়পুরে গণপিটুনিতে ২ ডাকাত নিহত রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, রায়পুর উপজেলার কাজিরচর গ্রামে বুধবার গভীর রাতে ডাকাতি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গণপিটুনিতে দুই ডাকাত নিহত হয়েছে। নিহত এক ডাকাতের নাম সালেহ আহাম্মদ সুজন (৩৪)। সে রামগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আলী আহাম্মদ মিস্ত্রীর ছেলে। অপরজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। ডাকাতদের গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণে ৪০ জন আহত হয়। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, কাজীরচর গ্রামের শরীফ হোসেন ও মিজানুর রহমানের বাড়িতে রাত ২টার দিকে একদল সশস্ত্র ডাকাত প্রবেশ করে। খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ ও এলাকাবাসী ডাকাতদের ঘিরে ফেলে। ডাকাতরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ পাল্টা গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলে ২ ডাকাত গুরুতর আহত হয়। পরে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে তারা মারা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, ২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে। গুলিবিদ্ধ শরীফ হোসেন, মিজানুর রহমান, কবির উদ্দিন, আলাউদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, মোঃ কামাল, ওমর ফারুক, আজাদ, কামাল হোসেন, রাজু, রানী বেগম, মোঃ আমিনসহ ২০ জনকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ৪ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপক কুমার সাহা বলেন, ডাকাতদের বন্দুকের ছোররা গুলিতে লোকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ডাকাতি, অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। গলাচিপায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা গলাচিপা(পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, গলাচিপায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কবির হোসেন (২৮) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশী হাফিজুর প্যাদা (৩০) ও ফারুক (৩৫) নামের দুই যুবক। উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের মানিক চাঁদ গ্রামে বুধবার বিকালে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে হাজেরা বেগম (৫২) নামের একজনকে আটক করেছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাফিজুর ও ফারুক কবিরকে বেধড়ক মারধর করার সময় তার মা কুলসুম বেগম (৫৫) ও বোন রহিমা বেগম (৩০) এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধর করে আহত করা হয়। উন্নত চিকিত্সার জন্য বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে কবির মারা যান। ঝিনাইদহে এক বৃদ্ধকে জবাই ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আলামপুর গ্রামের মঞ্জের আলি (৬৫) নামে চরমপন্থি দলের এক বৃদ্ধ সদস্যকে গলা জবাই করেছে সন্ত্রাসীরা। তিনি আলামপুর গ্রামের ঈমান আলির ছেলে। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তার বাড়ির কাছে একটি মরিচ ক্ষেতে কলা কাটা লাশ দেখে গ্রামের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। মঞ্জের আলি চরমপন্থি সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টির তালিকাভুক্ত সদস্য ছিলেন। ভৈরবে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১ ভৈরব সংবাদদাতা জানান, মানিকদীতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে দুলাল মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এসময় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আহতদের উদ্ধার করে ভৈরব, কুলিয়ারচর ও ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ভৈরবের মানিকদীর বিবদমান নয়াহাটি ও পরিখারপাড় গ্রামের কয়েকশ’ লোক এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আত্মীয়তার সূত্র ধরে পাড়াতলী গ্রামবাসী পরিখারপাড়ের সাথে যোগ দিলে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষের সময় এক পক্ষের লোকজন এলাকার নয়াবাজারে হামলা চালিয়ে ৮/১০টি দোকানে ভাঙচুরসহ লুটপাট চালায়। ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত র্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় সিএনজি চালক খুন কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ায় বুধবার রাতে একদল দুর্বৃত্ত যাত্রীবেশে সিএনজি ভাড়া করে পথিমধ্যে চালক সোনা মিয়াকে (৩০) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর সিএনজিটি নিয়ে পালিয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার র্যাবের একটি দল শহরের থানাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকৃত সিএনজিসহ চারজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন শামিউল ইসলাম ওরফে সবুজ (২২), সাদ্দাম হোসেন (২২), মোঃ হাসান (২৪) ও মোঃ শামিন। সোনা মিয়া ভেড়ামারা থানাধীন পূর্ব ভেড়ামারা এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।