বিটিসিএলের এমডিসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৮
ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) দুর্নীতিতে প্রায় ৬১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) বর্তমান ও সাবেক তিন এমডিসহ মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক এসএম সাহিদুর রহমান বাদি হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বনানী থানায় এসব মামলা করেন। মামলার এজহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজসে ছয়শ সাত কোটি ৫৬ লাখ ১৭ হাজার পাঁচশ ৫০ টাকা আত্মসাত্ করেছে। এ চার মামলায় আসামিরা হলেন, বিটিসিএলের বর্তমান এমডি এসওএস কলিমুল্লাহ, সাবেক এমডি মো. খবিরুজ্জামান, আফসারুল আলম ও ড. আবু সাঈদ খান, বিটিসিএল-এর প্রাক্তন বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. খোরশেদ হাসান, মনীরা বেগম, হাবিবুর রহমান প্রামাণিক, সাবেক সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোক্তার আহমেদ, সাবেক এডিই সাজ্জাদ হোসেন, রোনেল চাকমা, বদিউল আলম, জিএম (ওটিআর) আনোয়ারুল মামুন, সাবেক সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌফিক, সাবেক সহকারী পরিচালক খান মোহাম্মদ কায়সার। এছাড়া এরিকসন বাংলাদেশ লিমিটেডের কন্ট্রাক্ট ম্যানেজার আসিফ জাহিদ চৌধুরী, কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজার নজরুল ইসলাম এবং প্রকৌশলী মাসরুরুল হাকিমকেও এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, বিদেশ থেকে আসা বিপুল পরিমাণ টেলিফোন কলের ডাটা মুছে ফেলার অভিযোগ পেয়ে গত বছর দুদক অনুসন্ধানে নামে। বিটিসিএল ও ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকলের (ভিওআইপি) দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে গিয়ে দুদক কর্মকর্তারা দেখতে পান বিটিসিএলের আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জের আইটিএক্স-৫ এবং আইটিএক্স-৭ থেকে যে সংখ্যক কল পাঠানো হয়েছে তা সঠিকভাবে রেকর্ড না করে কল ডাটা মুছে ফেলা হয়েছে। ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ২০১১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিদেশ থেকে আসা এসব কলের রেকর্ড মুছে ফেলে বিটিসিএল ও এরিকসনের প্রতারক চক্র। এ জালিয়াতির কারণে প্রকৃত ইনকামিং কলের তুলনায় আইটিএক্সে প্রদর্শিত কল ডাটার পরিমাণ অনেক কম। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এরপর দুদক কর্মকর্তারা প্রাথমিক অনুসন্ধানে গত জুন মাসে অনুসন্ধান টিম কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেয়। ঐ প্রতিবেদনে তথ্য-প্রমাণসহ অপরাধের ধারা উল্লেখ করে বিটিসিএলের এমডিসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়। যাচাই বাছাই শেষে গত রবিবার মামলার অনুমোদন দেয় দুদক। দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, এরিকসন বাংলাদেশ লিমিটেডের সরবরাহ করা সফটওয়্যার ব্যবহূত হচ্ছে বিটিসিএলের ইন্টারন্যাশনাল ট্রাঙ্ক এক্সচেঞ্জ (আইটিএক্স)-৫ ও আইটিএক্স-৭ সাব-এক্সচেঞ্জে। সফটওয়্যারটি সংরক্ষণ করছিল এরিকসন বাংলাদেশ। এর ফলে তাদের সহায়তা নিয়েই বিটিসিএলের একটি চক্র কল-ডাটা রেকর্ডে (সিডিআর) ক্ষেত্রে এ ধরনের দুর্নীতি করেছে।