সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে এর প্রভাব বইতে হয় সারা জীবন। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের প্রশ্নে। এ জন্য শুরুতেই সাধ্যানুযায়ী হিসেব কষে পা ফেলতে হবে, এমন বিষয় বেছে নিতে হবে; যেখানে সময় ও অর্থের অপচয় হবে না। বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এখন দেশে এমন অনেক পড়াশোনা আছে, যা শেষ করতে পারলে পাস করার আগেই চাকরির প্রস্তাব আসে। এমনই একটি সম্ভাবনাময় ও সাশ্রয়ী ক্ষেত্র মেডিকেল টেকনোলজি। এই সেক্টরে রয়েছে ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি ও ৪ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি কোর্সসমূহ। ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজির আওতায় রয়েছে—ল্যাবরেটরি মেডিসিন (প্যাথলজি), ডেন্টাল, ফার্মেসি, ফিজিওথেরাপি, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং (এক্সরে) এবং নার্সিং।
বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত ও রাষ্ট্রীয় চিকিত্সা অনুষদ অধিভুক্ত এই কোর্স করতে পারলে আকর্ষণীয় বেতনের সম্মানিত ও সেবামূলক চাকরি একরকম হাতের মুঠোয়। বর্তমানে দেশের সরকারি-বেসরকারি আধুনিক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও এনজিওতে এ জাতীয় পেশাদারদের চাহিদা ব্যাপক।
ভর্তির যোগ্যতা :এই লেখাপড়ার জন্য বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ পেলেই হলো।
কোথায় পড়বেন :মেডিকেল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা কিংবা উচ্চতর পড়াশোনার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত ও রাষ্ট্রীয় চিকিত্সা অনুষদ অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সাইক ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, স্টেট কলেজ অব হেলথ সায়েন্স, স্পার্ক ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি ও মার্কস ইনস্টিটিউট অন্যতম।
যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবেন আগে তার অনুমোদন, পূর্বের সাফল্য, শিক্ষাব্যয়, পড়াশোনার পদ্ধতি, পরিবেশ ইত্যাদি ভালোভাবে খোঁজ নিতে সরাসরি প্রতিষ্ঠান ভিজিট করে তারপর ভর্তির সিদ্ধান্ত নিন।
কোর্সের শেষ ভাগে থাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা। এই সময় আপনার বাস্তব কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে নিতে সচেষ্ট হন। বিশেষ করে ভালো প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিতে পরামর্শ দিন কর্তৃপক্ষকে। একাডেমিক রেজাল্টের পাশাপাশি আপনার কর্মদক্ষতা যত ভালো হবে তত ভালো পদ ও প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাবেন।
ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অনুদানভুক্ত এই প্রতিষ্ঠান ২০০৯ সালে ল্যাব মেডিসিন ও ২০১০-এ ডেন্টালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ১ম স্থান অর্জন করে। এখান থেকে পাসকরা প্রায় সকল ছাত্রছাত্রীই সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উচ্চ পদে চাকরি করছে। এখানে ব্যবহারিক ক্লাস তথা ক্লিনিক্যাল ট্রেনিংয়ের জন্য রয়েছে নিজস্ব সাইক ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবসহ দেশের খ্যাতিমান বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকে ইন্টার্নশিপের অবাধ সুযোগ। এ ছাড়াও এদের আছে ৫০০ আসনবিশিষ্ট ছেলে-মেয়েদের পৃথক আধুনিক ছাত্রাবাস, ৬০০০ বইসমৃদ্ধ কম্পিউটারাইজড গ্রন্থাগার, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, ডিজিটাল ল্যাব ইত্যাদি। বিশেষ করে এখানে পড়াশোনা শেষে রয়েছে জব সার্চিং ও কাউন্সিলিং ব্যবস্থা। উল্লেখ্য যে, এই প্রতিষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি কোর্স করার সুযোগ থাকায় ডিপ্লোমা পাসকৃতরা উক্ত কোর্সে ভর্তি হতে চাইলে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ :বাড়ি-১, রোড-২, ব্লক-বি, মিরপুর-৬, ঢাকা। ফোন :০১৯৩৬০০৫৮১৮, ০১৭৬৭৭১৭০৫৬। এখানে অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন, সরকারি আইএইচটি’র সাবেক অধ্যক্ষ এবং আছেন সংশ্লিষ্ট সেক্টরে অভিজ্ঞ ৮০ জন শিক্ষক। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এদের রয়েছে পৃথক বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
