এইচএসসির পর উড়োজাহাজ ইঞ্জিনিয়ারিং

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৩, ২০:৩১
উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে উন্নত বিশ্বের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু হয়। বিষয়টি প্রথম দিকে জনপ্রিয় না হলেও ক্রমে এর ইঞ্জিনিয়ারিং পেশার গুরুত্ব ও চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। সারা বিশ্বে শত শত বিমান সংস্থায় লাইসেন্সধারী ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে চলেছে, যা সহজেই পূরণ করা সম্ভব নয়। এশিয়ার চাহিদা মেটানোর জন্য এমিরেটস বিটেক এডেক্সেলের আন্ডারে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তৈরির জন্যে অ্যাভিয়েশন কলেজের কর্মকাণ্ড শুরু করলেও তারা এয়ারলাইন্সে এক্সপার্টদের চাহিদা মেটাতে পারছে না। এই ধারায় বাংলাদেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার জন্য সেই যুক্তরাজ্যের শিক্ষাবোর্ড বিটেক এডেক্সলের আন্ডারে কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজি যাত্রা শুরু করে। এএমই বা এয়ারক্রাফট মেইনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ার ডিগ্রিপ্রাপ্তদের শুধু এদেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে রয়েছে অফুরন্ত চাহিদা। একজন এএমই যেমন বিমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তেমনি এর সমতুল্য অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রিধারী ব্যক্তিবর্গ অ্যাভিয়েশন সেক্টরে ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে রাখেন যথেষ্ট অবদান। বিমানের যাবতীয় প্রকৌশলগত তথা যেকোনো ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতির মেরামত বা সংশোধন ছাড়াও, বিমানকে সার্বিকভাবে কার্যোপযোগী বা উড্ডয়নোপযোগী করার দায়িত্ব পালন করা এয়ারক্রাফট মেইনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ারদের উপর ন্যস্ত থাকে। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর গ্র্যাজুয়েট ও আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি রয়েছে। এক্ষেত্রে ১৮ মাস পর পায় আন্তর্জাতিক ধারার সার্টিফিকেট লেভেল থ্রি বা এনডি। এর পর আঠারো মাসের লেভেল ফাইভ বা এইচএনডি। এরপর ফাইনাল ইয়ার বা চতুর্থ বছর পায় টপ আপ বিবিএ বা বিএসসি। বিশেষ করে যারা এইচএসসি বা ‘এ’ লেভেল পাস করে উন্নত বিশ্বে চলে যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য কোর্সটি বেশি কার্যকরী। ফাইনাল ইয়ারে ১ বছর এয়ারপোর্টে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ রয়েছে। আনন্দের বিষয় আগে ফাইনাল ইয়ার বা টপ আপ বিএসসি করতে দেশের বাইরে যেতে হতো এখন লেভেল-৬ সম্পন্ন করা যাচ্ছে কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজিতে; যাদের সেন্টার কোড ৯৩১৪২ এবং প্রধান ক্যাম্পাস সেক্টর-১১, রোড-২, বাড়ি-১৪, উত্তরা, ঢাকা। ফোন :০১৯২৬৩০২৯৪০। এটি বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের প্রথম অনুমোদিত অ্যাভিয়েশন ইনস্টিটিউট, যার কলেজ কোড ৫০৩৮৯। কলেজটির অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্সের প্রথম দ্বিতীয় ব্যাচের কয়েক শ শিক্ষার্থী ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, জার্মান, আয়ারল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বে চাকরি বা ইন্টার্নি করতে চলে গেছে। তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যেতে শুরু করেছে এরইমধ্যে। অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্সের আরেকটি কোর্স ইউরোপিয়ান অ্যাভিয়েশন সেফটি এজেন্সি ইএএসএ পি-৬৬ এয়ারক্রাফট পরিচালনা সনদ এএমএল। অবশ্য অল্প সময়েও অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্সের উপর আরেকটি কোর্স করা যায়। এক্ষেত্রে শ্যানন অ্যারোস্পেসের অধীনে ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে ইএএসএ কমন মডিউলে থিউরিটিক্যাল সম্পন্ন করে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষার জন্য চলে যেতে পারে আয়ারল্যান্ডের শ্যানন এয়ারপোর্টে।