লক্ষ্য যখন মেডিকেল টেকনোলজি

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৩, ২০:৩২
এসএসসি বা এইচএসসি পাসের পর বেছে নেওয়া উচিত এমন একটি বিষয়, যেখানে শিক্ষাব্যয় কম এবং পড়াশোনা শেষে বেকার বসে থাকতে হয় না। তেমনি একটি সম্ভাবনাময় পেশা মেডিকেল টেকনোলজি। এই পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছে মানবতাবোধ ও সহমর্মিতা। হাজার বছর ধরে মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধার দিক দিয়ে এ পেশার অবস্থান শীর্ষে। চিকিত্সা সেবায় মূলত ডাক্তারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়; কিন্তু একটি হাসপাতাল বা ক্লিনিক শুধু ডাক্তার দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না। প্রত্যেকটি বিভাগে ডাক্তারদের সহকারী প্রয়োজন হয়। ডাক্তারদের সহকারী এসব বিশেষজ্ঞ কর্মীরাই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা’র পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একজন গ্র্যাজুয়েট চিকিত্সকের বিপরীতে ৫-৬ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন। সে হিসেবে বাংলাদেশে ২ লাখেরও বেশি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এখনই দরকার। চিকিত্সা বিজ্ঞানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সেবা যুক্ত হওয়ায় দক্ষ টেকনোলিস্টদের চাহিদাও বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ইউনিয়ন, উপজেলা থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত প্রচুর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচুর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দরকার। এ ছাড়া দেশের বাইরে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের দেশগুলোতে এ পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মেডিকেল টেকনোলজির যেকোনো বিষয়ে তিন বা চার বছরের ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে শিক্ষার্থী যখন বের হচ্ছে, তখন শুরুতে বেতন পাচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। পরবর্তীতে কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তা ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ন্যূনতম এসএসসি পাসের পর পছন্দের যেকোনো বিষয়ে ভর্তি হতে পারেন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত বিষয়গুলো হলো ল্যাবরেটরি মেডিসিন (প্যাথলজি), ডেন্টাল, ফার্মেসি, নার্সিং, ফিজিওথেরাপি, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং ও প্যারামেডিকেল। তিন বছর মেয়াদি কোর্স শেষে ১৮-২০ বছর বয়সেই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া যায়। এ ছাড়া কোর্স শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় বা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ও এমএসসি করার সুযোগ রয়েছে। ন্যূনতম জিপিএ ২.৫সহ যেকোনো বিভাগ থেকে এসএসসি পাসের পর পছন্দের একটি কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। পড়াশোনা চলাকালীন কর্মদক্ষতা বাড়াতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের সুযোগ আছে। একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি কার্যদক্ষতা যত ভালো হবে তত ভালো অবস্থানে বা ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে পারেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স (বিমস্), এন/২৩, নূরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। ফোন :০১৭১৪৩০১৯২৫, ০১৯১৭১৬৩৩০৭। মেডিকেল টেকনোলজি বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স (বিমস্) কোর্সগুলি পরিচালনা করে আসছে। কোর্সগুলো হচ্ছে—১. ডিপ্লোমা ইন ল্যাবরেটরি মেডিসিন (প্যাথলজি) ২. ফামের্সি ৩. রেডিওলোজি অ্যান্ড ইমেজিং ৪. ডেন্টাল ৫. ফিজিওথেরাপি ৬. পেশেন্ট কেয়ার (নার্সিং) ও ৭. প্যারামেডিকেল। বিমস্-এর ওয়েবসাইটে (www.bims-bd.com) ভর্তি ফরম যাওয়া যাবে। নিজস্ব ভবনে অবস্থিত বিমস্-এ রয়েছে অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও ল্যাব। কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যের ‘বিজনেস ইনেসিয়েটিভ ডাইভারশন’ কর্তৃক ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিটি ক্রাউন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে।