বাগেরহাটের ৪টি আসনেই তত্পর মনোনয়ন প্রার্থীরা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৫
মরমী সাধক হযরত পীর খানজাহানের (রাঃ) পুণ্যভূমি বাগেরহাটে সারা দেশের ন্যায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট ও রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান করছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সাথে কুশল বিনিময় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। পবিত্র রমজান মাসে বিভিন্ন স্থানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন ও অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে শুরু হয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তত্পরতা। তারা নিজ নিজ এলাকায় রং-বেরঙের ফেস্টুন ব্যানার ও পোস্টার টানিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এভাবে মানুষের কাছে নিজেদের আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগাম বার্তা পৌঁছে দেন। এলাকার বাইরে অবস্থানরত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঘন ঘন এলাকায় এসে লোকজনের সমস্যার কথা শুনছেন। নির্বাচনকে ঘিরে এ সব দৌড় ঝাঁপের সাথে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের মনোনয়ন পেতে কেন্দ ীয় নেতাদের সাথে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে সবকটিতে জয়লাভ করেছিল। বাগেরহাট-১ আসনঃ চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট- এ ৩ উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-১ আসন গঠিত। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত এ আসনে স্বাধীনতা উত্তরকালে আওয়ামী লীগ ব্যাপক ভোটে জয়ী হয়। পর পর তিনবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আসন থেকে জয়ী হওয়ার পর উপ-নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন তারই আপন চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন। তিনিও তিনবার উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে এমপির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অপরদিকে নির্বাচনী হাওয়ায় বিএনপির পাঁচজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন- জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ ীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুশফিকুর রহমান, এ্যাডভোকেট ও চীফ ইঞ্জিনিয়ার (মেরিন) মাসুদ রানা, সহ-সভাপতি মুজিবর রহমান, কেন্দ ীয় কমিটির সদস্য ও ধানমন্ডি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি ও বিএনপির কেন্দ ীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দীপু প্রমুখ। বাগেরহাট-২ আসনঃ বাগেরহাট সদর ও কচুয়া মিলে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট মীর শাওকাত আলী বাদশা ও আমেরিকা প্রবাসী মাহাবুবুর রহমান মিঠু, বিএনপি থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খান মনিরুল ইসলাম। অপর দিকে সাবেক এমপি এমএ এইচ সেলিমের নাম দলের ত্যাগী নেতাদের মুখে শোনা যাচ্ছে। বাগেরহাট-৩ আসনঃ রামপাল ও মংলা মিলে এ আসন থেকে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ হানিফ, মংলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলী ইজারাদার প্রমুখ। অপর দিকে বিএনপি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা আলহাজ্ব ড. ফরিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ আব্দুল হালিম খোকন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা বাবু, সাবেক বিএনপি নেতা ক্যাপটেন জাহিদুর ইসলাম ও জাতীয় পার্টি থেকে আব্দুর সবুর প্রমুখ। বাগেরহাট-৪ আসনঃ মোড়লগঞ্জ ও শরণখোলা মিলে এ আসনে যাদের নাম আলোচনায় আসছে তারা হলেন- আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ও জেলার সভাপতি ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন, সাবেক আইজিপি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সামছুল আলম তালুকদার, কেন্দ ীয় কমিটির সদস্য জামিরুল হোসেন প্রমুখ। বিএনপি থেকে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ড. মীর আব্বাস উদ্দিন, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও মোড়লগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ খালেক, বিএনপির নেতা কাজী মনিরুজ্জামান, জেলা কমিটির সদস্য খায়রুজ্জামান প্রমুখের নাম শোনা যাচ্ছে।