ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপে (টিপিপি) বাংলাদেশকে যুক্ত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। তিনি বলেছেন, টিপিপিতে যুক্ত হলে বাংলাদেশ বিশ্বের এক নম্বর পোশাক রপ্তানির দেশে পরিণত হবে। ওষুধ, জুতা, চামড়াজাত, পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানি বাড়বে। বাংলাদেশের সরকার, ব্যবসায়ী মহল ও সুশীল সমাজ টিপিপি’তে যোগ দেয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সহযোগিতায় সেন্টার ফর ইস্ট এশিয়া ফাউন্ডেশন (সিয়াফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও বঙ্গোপসাগরীয় নিরাপত্তা’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, সমুদ্রের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দেবে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে।
রাষ্ট্রদূত মো. হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে রাজধানীর মহাখালীস্থ ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. আতাউর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিয়াফ এর নির্বাহী পরিচালক নাসিম মাহমুদ। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, সাংবাদিক সাদেক খান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক শাহেদুল আনাম খান, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল কাজী সারোয়ার হোসেন। এছাড়া সেমিনারে চীন ও স্পেনের রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিক, বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিক, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, চিলি, কানাডা, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, ও ভিয়েতনাম প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে টিপিপি’র সদস্য দেশ। বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে টিপিপি নিয়মিত নেগোসিয়েশনের (আলোচনা) আয়োজন করে আসছে। এ বিষয়ে মজীনা বলেন, গতকাল ব্রুনাইতে টিপিপি’র ১৯তম আলোচনা শেষ হয়েছে। আমি আশা করি, বাংলাদেশ টিপিপিতে যুক্ত হবে। তবে এটা সহজও হবে না। কারণ সদস্য দেশগুলোকে শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হয়।
তবে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিপুল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। জীবন মানের উন্নতি হবে। এর মাধ্যমেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া সহজ হতে পারে।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে এখন সবচেয়ে শক্তিশালী, গভীর সম্পর্ক বিরাজ করছে। যদিও সকল সম্পর্কে কিছু কিছু মত ভিন্নতা থাকে।
ঘাঁটি তৈরির ইচ্ছা নেই
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে সপ্তম নৌবহরের ঘাঁটি বসানোর কোনো ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
বঙ্গোপসাগরে প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠান কনোকোফিলিপস বর্তমানে দুটি ব্লকে কাজ করছে। আরো একটি ব্লকের জন্য তারা দরপত্র দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে আরো গ্যাসের সন্ধান মিলবে।
