দেশের শিল্পচর্চার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন শিল্পী রহিমা আফরোজ। পাশাপাশি শিল্পী হিসেবে নিজের স্বতন্ত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রসর হয়েছেন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে। বিমূর্ত ফর্ম, রঙের মূর্ছনা, কর্ম দক্ষতা শিল্পী মহলে প্রশংসিত। তার শিল্পী মনের মধ্যে লুকিয়ে আছে দেশের প্রতি এক গভীর মমত্ববোধ। তার চিত্রকলায় তাই সব সময়ই প্রতিফলিত হয়েছে গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গ। ঢাকা আর্ট সেন্টারে প্রদর্শিত হয়েছে ‘রঙের মূর্ছনা’ শীর্ষক তার প্রথম একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। তাকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।
রহিমা আফরোজ ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা), ঢাকা, থেকে চিত্রকলায় ২০০৮ সালে বিএফএ সম্মান ও ২০০৯ সালে এমএফএ কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দলীয় চিত্রকলা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। তার সেই ছবিগুলো প্রশংসা অর্জন করেছে। এটি তার প্রথম একক চিত্রকলা প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পীর মা আনোয়ারা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী মনিরুল ইসলাম ও অধ্যাপক সামসুল ওয়ারেস। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ। প্রদর্শনীতে শিল্পকর্ম রয়েছে ৩৩টি। এর মধ্যে সাতটি ছাপচিত্র, বাকিগুলো অ্যাক্রেলিকে করা। প্রধানত বিমূর্ত ধারায় কাজ করেছেন তিনি। রহিমা আফরোজ ইউডার চারুকলা বিভাগ থেকে এমএফএ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে স্বাধীনভাবে শিল্পচর্চা করছেন। প্রদর্শনীটি চলবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত। খোলা থাকবে প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। তার কাজের বিষয়বস্তু ও বৃত্ত ও কম্পেজিশনের সমন্বয়ে এক বিশিষ্টতা অর্জন করেছে যা ভবিষ্যতে তার প্রতিষ্ঠা লাভে সহায়ক হবে। তার শিল্পচর্চায় শ্রম, সততা ও নিষ্ঠা যে যোগসূত্র স্থাপন হয়েছে, তার প্রশংসার যোগ্য। চিত্রকর্মগুলোতে, ফর্ম ও রং ও বিষয়বস্তু সুচারু রঙের মূর্ছনায় উপস্থাপন করেছেন এবং তার ছবিতে যে বিমূর্ত ভাব ফুটে উঠেছে তা প্রকৃতি থেকে উত্সারিত। তার চিত্রকলা এমন এক বাস্তবতাকে তুলে ধরে যার মধ্যে বাংলাদেশের আত্মাকে খুঁজে পাওয়া যায়। নাগরিক পরিশীলন রুচিকে উন্নত পরিমার্জিত করলেও তার মনোভূমিতে রয়ে গেছে মাটির গন্ধ। সে কারণে বিষয়-অন্বেষার ক্ষেত্রে তিনি প্রকৃতির আশ্রয় নিয়েছেন।
