আঁকা আসাদ
ডাক নাম :আঁকা
জন্মতারিখ ও স্থান :০৪ জুন, ঢাকা
মায়ের নাম :রেবেকা সুলতানা
বাবার নাম :কাজী আসাদুজ্জামান
প্রথম স্কুল :ওয়াই ডব্লিউ সি এ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল
প্রিয় উক্তি :You only live once, but if you do it right, once is enough.
প্রিয় পোশাক :কামিজ
অবসর কাটে যেভাবে :ঘুরে বেড়িয়ে, নাচের অনুশীলন করে
সাফল্যের সংজ্ঞা :নিজের কোনো প্রাপ্তিতে মায়ের মুখে হাসি দেখতে পারাটাই সফলতা।
ছোটবেলা থেকেই উত্সব পার্বণের দিকে খুব ঝোঁক ছিল তার। খালাতো বোনের বিয়ে কি বান্ধবির বোনের হলুদ, আয়োজনটা করা চাই আঁকার। সেই থেকেই সবাইকে বন্ধু করে নেওয়ার একটা প্রবণতা ছিল তার মাঝে। আর মাও সব সময় বন্ধুর মতো ছিল তার পাশে। শৈশবের সেই উচ্ছল দিনগুলোত নিজের অজান্তেই নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার হাতেখড়িটা হয়ে গেছে তার। আর সেই আঁকাই এখন বিশ্বের অন্যতম নেতৃস্থানীয় ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের বাংলাদেশস্থ গুলশান শাখার রিলেশনশিপ ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ার সময় থেকেই কর্পোরেট জগতের লাল-নীল দুনিয়ায় বিচরণের স্বপ্নে মাতেন তিনি। তখন থেকেই শখ ছিল আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করবেন। বহুজাতিক একটি কোম্পানি থেকে ইন্টার্নশিপ শেষ করেই সুযোগ পেয়ে যান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে। বছরখানেকের একটা ট্রেনিংও করে নেন অভিজ্ঞ একদল ব্যাংকারদের কাছ থেকে। এরপর থেকেই যাত্রা শুরু।
কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই পেশায়? জানতে চাইলে প্রজন্মের মেধাবী এই কর্পোরেট বলেন, ‘প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের সংস্পর্শে আসার অন্যরকম এক আনন্দ আছে। আর এই কাজের মধ্য দিয়ে নতুন অনেক কিছু শেখাও হচ্ছে।’ পেশা হিসেবেও আমাদের দেশে ব্যাংকিং দারুণ উপযোগী বলে মনে করেন আঁকা আসাদ। তার মতে, আমাদের দেশের অর্থনীতির একটা বড় অংশ নির্ভর করে ব্যাংকিং খাতের উপর। আর কর্পোরেট দুনিয়ায় ব্যাংকিং এখনও আমাদের দেশে অনেক বেশি উপভোগ্য কাজ করার ক্ষেত্র হিসেবে। পরিবেশ, সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা সব মিলিয়েই অনেক উপযোগী এক ক্যারিয়ার ব্যাংকিং। আর কাজ শেখা, সেই সাথে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্যও দারুণ সুযোগ রয়েছে এখানে। তরুণপ্রজন্মকে এই পেশায় স্বাগত জানিয়ে আঁকা আসাদ বলেন, ‘নতুনরা সব সময়ই প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর। প্রযুক্তির জ্ঞান তাদের অনেক বেশি। চাইলেই অল্প সময়ে অনেক কিছু করতে পারেন তারা। তবে ধৈর্য ধরাটাও শিখতে হবে ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে গেলে।’ আর একই সাথে অবশ্যই যেকোনো কাজে সাফল্য পেতে তাতে পুরোপুরি মন দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। চেষ্টা করে গেলে সফলতা আপনাআপনিই আসবে। আঁকা আসাদের শৈশব-কৈশোর কেটেছে দারুণ আনন্দে। স্কুল-কলেজ বা পারিবারিক যেকোনো উত্সবে পারফর্ম করা তার জন্য ছিল যেন বাধ্যতামূলক। সেই দিনগুলো অনেক মধুর ছিল, সময় পেলে সেই বন্ধুদের সাথে এখনও আড্ডায় মাতেন তিনি। একমাত্র বোন আনতাকি রাইসা তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু, একাত্তর টেলিভিশনে রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত তিনি। বাবা সরকারি কর্মকর্তা, মা একজন আদর্শ গৃহিণী। কাছের এই মানুষদেরকে ঘিরে তার যে আপন বলয়, তা অন্য এক মোহে আবিষ্ট করে রেখেছে তার সারা জীবন। খুব পরিকল্পনা করে কোনো কাজ করা হয় না আঁকার। তবে এ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে কর্পোরেট দুনিয়ায় সফলতার স্বাক্ষর রাখবেন এই স্বপ্ন দেখেন তিনি।
