ওয়েডিং প্ল্যানার

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৩২
নুসরাত নওরিন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ওয়েডিং ডেকোর বাই নূসরাত নুসরাত নওরিন ডাকনাম :স্বর্ণা জন্মতারিখ ও স্থান :২৬ জানুয়ারি, ঢাকা মায়ের নাম :জয়নাব আক্তার বাবার নাম :আব্দুল ওয়াদুদ খান প্রথম স্কুল :ভিকারুননিসা নূন স্কুল প্রিয় মানুষ :বাবা-মা প্রিয় উক্তি :শুধুমাত্র সফলতা নয়, শ্রেষ্ঠত্বকে অর্জন কর। প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে যেভাবে :গান শুনে সাফল্যের সংজ্ঞা :মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। শৈশব থেকেই নুসরাতের সঙ্গী ছিল তিনটা জিনিস—কাগজ, কাঁচি আর আঠা। আর্ট পেপার দিয়েই তৈরি করে ফেলতেন বিভিন্ন ডিজাইনের কার্ড। কখনও সুন্দর কোনো বাক্স, কখনোবা গিফট বক্স। আর একটু বড় হতেই নিজের ডিজাইনেই বানাতেন ফুলের গয়না, খেলনা বাড়িঘর। আর যার এ রকম সৃজনী মন, সে তো নিজেকে ডিজাইনের সাথে সম্পৃক্ত করবেই। জড়িয়ে গেলেন তিনি বিয়ের আয়োজনের সাথে। শুরুটা নিজের পরিবার থেকে হলেও মেধা গুণে ক্রমেই পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। বলছিলাম নুসরাত নওরীনের কথা। ওয়েডিং প্ল্যানিং এবং ডেকোরেশনে এরইমধ্যেই তিনি পেয়েছেন দারুণ জনপ্রিয়তা। ‘ওয়েডিং ডেকোর বাই নুসরাত’ একটি স্বনামধন্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান, যাদের সুনাম দেশের সীমানা পেরিয়ে গত ২ বছরে ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। এরইমধ্যে তারা ৩শ’র অধিক বিয়ের অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজন করেছেন। শুরুর দিকে মূলত গহনা ডিজাইন করে থাকলেও চাহিদার কারণেই এখন সব ধরনের ডিজাইনে মনোনিবেশ করেছেন তিনি। কেনইবা এই ধরনের পেশায় আকৃষ্ট হলেন নুসরাত? ‘আসলে প্রতিটি মানুষেরই জীবনে বিয়েকে ঘিরে অন্যরকম এক উন্মাদনা কাজ করে। ওয়েডিং ডেকোরের কাজ হলো, সেই উন্মাদনাটাকে উত্সবে পরিণত করা, জাঁকজমক এক ডিজাইন দিয়ে সেটাতে পূর্ণতা আনা। আর যখন উত্সবে আসা অতিথিরা তাদের এই ডেকোরেশন দেখে মুগ্ধ হন, তখনই আসে মূল সফলতা’, এমনটাই ছিল নুসরাতের ভাষ্য। নতুনদের এই কাজে স্বাগত জানিয়ে নুসরাত বলেন, ‘এ কাজে আগ্রহীদের অবশ্যই সৃজনশীলতা থাকতে হবে। মার্কেট এবং ব্র্যান্ডের প্রতিও সচেতন থাকতে হবে সব সময়। মনে রাখতে হবে, কাজের স্বকীয়তাই একজনকে সবার কাছে পরিচিত করে তোলে।’ ব্যক্তিগত জীবনের পরিধি সম্পর্কে নুসরাত জানালেন, তারা তিন বোন। তিনি সবার ছোট। আনন্দেই কেটেছে তার শৈশবের দিনগুলো। আধুনিক মানসিকতার পরিবার তাকে সব সময়ই তার কাজে উত্সাহ দিয়েছে। নুসরাত স্বপ্ন দেখেন, তার কাজের পরিচিতি দেশ ছাড়িয়ে বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে। 0000 শাকিলা জামান ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর, রুস্মত শাকিলা জামান ডাকনাম :ঈশিতা জন্ম তারিখ ও স্থান :৮ জুলাই, ঢাকা মায়ের নাম :নিলুফার জামান বাবার নাম :এমএ জামান প্রথম স্কুল :ওয়াই ডব্লিউ সি এ, ঢাকা প্রিয় মানুষ :আমার বাবা প্রিয় উক্তি :Every exit is an entry somewhere else. প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে যেভাবে :গান শুনে ও ছবি এঁকে সাফল্যের সংজ্ঞা :সঠিক সময়, সঠিক পরিকল্পনা এবং কঠোর পরিশ্রম| শুরুটা মূলত স্কুলজীবনে শখের বসে মেহেদি আর আলপনা এঁকে। ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগে পড়ার সময় বন্ধু-বান্ধবদের ভাই-বোনের বিয়েতে পরিকল্পনা করতেন। আর নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির বন্ধু তৌসিফ রশিদ তার কল্পনাকে বাস্তব রূপ দিতেন। ২০১০ সাল, বিয়ের নিখুঁত পরিকল্পনা ও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের সাফল্য তাদের অনুপ্রাণিত করে কাজটিকে ব্যবসায়িক কাঠামো দিতে। একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ায় তৌসিফকেই জানিয়েছিলেন তার প্রথম পরিকল্পনার কথা। তৌসিফের ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা ও তার সৃজনশীলতার সমন্বয়েই গড়ে তোলেন স্বপ্নের রুস্মত। অবশেষে, ২০১২-তে মিথুনের (পারিবারিক বন্ধু) কঠোর পরিশ্রমে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল রুস্মত। বলছিলাম এই প্রজন্মের মেধাবী ওয়েডিং প্ল্যানার শাকিলা জামানের শুরুর গল্পটি। শাকিলা জামানের শৈশব কেটেছে রংতুলি হাতে নিয়ে। আর ছবি আঁকা, কাগজের খেলনা বানানো, মেহেদি ও আলপনা আঁকার মাঝেই কেটেছে তার কৈশোরের দিনগুলো। তার সব বই-খাতার খালি জায়গায় পাওয়া যেত তার আঁকা বিভিন্ন রকম আলপনা। ছোটবেলা থেকেই দাতা সংস্থার পরিচালক বাবার আদর্শ আর গৃহিণী মায়ের শাসনই তাকে চলতে শিখিয়েছে বাস্তবতার কঠিন পথে। তার কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে শাকিলা জামান বলেন, ‘২০১১ সালে আমরা গ্রাহকদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই যাত্রা শুরু করে একে একে সেবা বাড়িয়ে রুস্মতকে বানিয়ে ফেললাম ওয়ান স্টপ সলিউশন। তিন ধরনের প্যাকেজ আছে আমাদের; সাইন, লিটার ও ডেজল সাইন হলো আমাদের মৌলিক প্যাকেজ, যেখানে আছে সবধরনের সেবা গ্রাহকদের বাজেটের মধ্যেই। লিটার হলো এমন এক প্যাকেজ যেখানে গ্রাহকেরা পাবেন সৃজনশীলতা ও মধ্য বাজেটের এক অনন্য সংমিশ্রণ। সবশেষে, আভিজাত্য ও থিম-বেজড কাজ নিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের ডেজল প্যাকেজ। এই প্যাকেজের সৃজনশীলতা পুরোটাই অনন্য ও ভিন্ন, যা কেউ আগে কখনও দেখেনি। নামের সার্থকতাকে বজায় রেখে সব প্যাকেজের সাথেই থাকে কম্পলিমেন্টারি রুস্মতের আনুষ্ঠানিকতা।’ সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন—দেশের সবখানে রুস্মতের সৃজনশীলতাকে ছড়িয়ে দেওয়া। 000 মো. কামরুজ্জামান পিপুল প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সাজানো ইভেন্টস অ্যান্ড ওয়েডিং মো. কামরুজ্জামান ডাকনাম :পিপুল জন্ম তারিখ ও স্থান :১ সেপ্টেম্বর, কুমিল্লা মায়ের নাম :শাহীন আক্তার বাবার নাম :কামাল উদ্দিন প্রথম স্কুল :দনিয়া একে হাই স্কুল প্রিয় মানুষ :মা-বাবা প্রিয় উক্তি :পরিশ্রমেই সফলতা আসে। প্রিয় পোশাক :শার্ট-প্যান্ট অবসর কাটে যেভাবে :গেমস খেলে সাফল্যের সংজ্ঞা :আরও বেশি পরিশ্রম। কেউ কি কখনও অন্যের ঝামেলা নিজের কাঁধে নিতে চায়? নিশ্চয় না। কাজের দায়িত্ব নেওয়া মানেই তো আরেক প্রস্থ চিন্তার জন্ম। অথচ যুগের চাহিদা আপনাকে দিয়ে কখন কী করিয়ে নেবে তা ভাবতেও পারবেন না। এই যেমন ধরুন ওয়েডিং প্ল্যানার। বিয়ের সার্বিক আয়োজন সুচারুভাবে সম্পন্ন করে দিতে অন্যের বিয়ের ঝামেলা নিজের কাঁধে নিয়ে নেয় ওয়েডিং প্ল্যানার বা বিয়ে ব্যবস্থাপক। আপনি যদি সৃজনশীল হন তবে আপনিও হতে পারেন একজন ওয়েডিং প্ল্যানার। আর কামরুজ্জামান পিপুল তেমনই একজন, অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও নিজেরই রয়েছে এখন একটি ওয়েডিং প্ল্যানিং প্রতিষ্ঠান ‘সাজানো’। পেশা হিসেবে এর দারুণ চাহিদার কথা উল্লেখ করে পিপুল বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠান সামলানো, মানে একবারে হাজার দায়িত্ব আর হাজার চিন্তার আনাগোনা। এ সময়ে বর-কনে বা তাদের অভিভাবকদের কাজের ব্যস্ততা অনেক বেড়ে যায় বলে সবকিছু ঠিকভাবে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় বিয়ের সার্বিক আয়োজন সুচারুভাবে সম্পন্ন করে দিতে তারা শরণাপন্ন হন ওয়েডিং প্ল্যানার বা বিয়ে ব্যবস্থাপকের কাছে।’ কামরুজ্জামান পিপুল এ পেশায় নতুনদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একজন ওয়েডিং প্ল্যানার যত বেশি সৃজনশীল হবেন, তার কাজ ততই ভালো হবে। মঞ্চ সাজানো থেকে শুরু করে বিয়ের প্রায় সব কাজেই সৃজনশীলতা জরুরি। মাথায় রাখা দরকার যে, বিয়ের অনুষ্ঠানটি একবারই হবে, চাইলেই অনুষ্ঠানটি আরেকবার করে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সর্বোচ্চ ভালোটি দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’ কামরুজ্জামান পিপুলের ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকা শহরে, যদিও তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়। তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, এখন সমাজসেবায় নিয়োজিত। মা পরিবার পরিকল্পনায় কাজ করতেন। এখন অবসরে। বড় ভাই মুকুল যোগ দিয়েছেন পিপুলের ব্যবসাতে। দুই ভাই মিলেই চাইছেন ধীরে ধীরে এগিয়ে যাক এই প্রতিষ্ঠান। স্ত্রী সাঈদা ইসলামের অনুপ্রেরণা পিপুলের পথ চলার পাথেয়। তাকে নিয়েই এখন রচিত হয় পিপুলের প্রতিদিনের সুখের দিনলিপি। পিপুল স্বপ্ন দেখেন আমাদের দেশে এ ধরনের ইভেন্ট আরও বেশি জনপ্রিয় হবে। আর তিনি তার অবস্থান থেকে সাধ্যনুযায়ী কাজ করে যাবেন দেশের উন্নয়নে।