নূরজাহান মুরশিদ ছিলেন সাহসী চেতনাসম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তিনি ছিলেন অবিচল। সামপ্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানবিকতা জাগাতে তিনি আন্দোলন করেছেন। তিনি বাংলাদেশে প্রথম মঞ্চ অভিনেত্রী এবং মন্ত্রী ছিলেন।
রবিবার শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নাট্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বক্তারা একথা বলেন। নূরজাহান মুরশিদ স্মৃতি পরিষদ এই আলোচনা ও আলেখ্যানুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামছুজ্জামান খান। নূরহাজান মুরশিদের লেখা প্রবন্ধ পাঠ করেন কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তার একটি সাক্ষাত্কার ভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। এরপর একটি রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশনের পর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জ্ঞানে, নৈতিকতায়, মানবিকতা বোধে, স্বদেশপ্রেমে, আচার-আচরণে, কথা-বার্তায়, আদর্শে তিনি ছিলেন অনন্য। তার লেখা দেশ, সমাজ, ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে, সুস্থ রাজনীতি ও মুক্তির ভাবনা সমৃদ্ধ ছিলেন তিনি। তার সাহিত্যকর্ম, জীবন সংগ্রাম আমাদের কালের বর্তমান প্রজন্মের প্রেরণার উত্স। তিনি শুধু নারী মুক্তির জন্য আন্দোলন করেননি। সকল মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন।
নূরজাহান মুরশিদ ১৯৪৯ সালে রেডিওর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ভিকারুন্নেসা নূন স্কুলে যোগ দেন। পরে হলিক্রস কলেজে ইতিহাসের অধ্যাপক হিসেবে চাকরি করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ থেকে জয়লাভ করেন। তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও জয়লাভ করেন। ১৯৬৯-৭১ সাল পর্যন্ত তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের তিন সদস্য বিশিষ্ট কূটনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৪৯ সালে ঢাকা ডক্টরস ক্লাবের উদ্যোগে শরত্চন্দ্র রচিত ‘বিজয়া’ নাটকে অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর সাথে অভিনয় করেন।
