সরকার আরও ৪১২৬ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্সের নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে তাদের নিয়োগপত্র প্রদান শুরু করা হবে বলে সেবা পরিদফতর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। তবে পছন্দের জায়গায় নিয়োগ পেতে নার্সদের বিপুল অংকের টাকা একটি সিন্ডিকেটকে উেকাচ হিসাবে প্রদান করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঐ সিন্ডিকেট নার্সদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছে, ভাল জায়গায় নিয়োগ পেতে হলে ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত উেকাচ দিতে হবে। ইতিমধ্যেই অনেক নার্স সিন্ডিকেট সদস্যদের উেকাচ দিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, সিন্ডিকেট তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, যদি পছন্দের জায়গায় কিংবা নিজ জেলায় নিয়োগ পেতে চাও তাহলে প্রত্যেককে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যথায় ভাল জায়গা ভাগ্যে জুটবে না। বিশেষ করে ঢাকা কিংবা আশেপাশে নিয়োগ পেতে এক লাখ টাকা রেট।
জানা গেছে, ঐ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে কথিত মুক্তিযোদ্ধা নামধারী এক ব্যক্তি এবং একজন নার্স নেতা। এছাড়া সেবা পরিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা ঐ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। উেকাচ বাণিজ্যের লাখ লাখ ঐ সব কর্মকর্তার পকেটে যাবে। সিন্ডিকেটের কোন কোন সদস্য নার্সদেরকে সাফ জানিয়ে দেয় যে, নিয়োগ কমিটির কর্মকর্তারা তাদের দেয়া তালিকা অনুযায়ীই নার্সদের জন্য চাকরিস্থল নির্ধারণ করবেন। নিয়োগপত্রে তা স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে। সিন্ডিকেটের এসব কথা শুনে অসহায় নার্সরা কেউ জায়গা জমি বিক্রি করে কিংবা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চাকরি করে জমানো টাকা অথবা আত্মীয়-স্বজনের কাছে ধার করে এনে চাহিদা অনুযায়ী উেকাচের টাকা তুলে দেন সিন্ডিকেটের হাতে।
সরেজমিনে সেবা পরিদফতর ও মন্ত্রণালয় গিয়ে ঐ সিন্ডিকেটের কিছু সদস্যকে কতিপয় কর্মকর্তার রুমে বসে আলাপ করতে দেখা যায়। কর্মকর্তাদের অনেকে সিন্ডিকেটের নেতাদের রীতিমতো খাবার খাইয়ে আপ্যায়ন করছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, সিন্ডিকেট সদস্যরা সেবা পরিদফতর ও মন্ত্রণালয়ে সকাল থেকে সারাদিনই অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে নার্সদের নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য বিষয়ক আলাপ-আলোচনা করে সময় কাটায়।
কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, সিন্ডিকেট সদস্যদের তদ্বির অনুযায়ী কাজ না করলে তাদের ঢাকার বাইরে বদলি করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। অথচ তারা সবাই বহিরাগত, কেউ এ পরিদফতর ও মন্ত্রণালয়ে চাকরি করে না। বছরের পর বছর তারা সরকার দলীয় লোক সেজে নিয়োগ বদলি বাণিজ্য করে আসছে। যে সরকার ক্ষমতায় আসে ঐ সিন্ডিকেট সদস্যরা সেই সরকারের দলীয় নেতা-কর্মী সেজে বসে। দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। সিন্ডিকেটের লোকজন সিনিয়র কর্মকর্তাদের রুমে অবাধে যাতায়াত করে। তাদের ফাইল সই করিয়ে নিয়ে আসে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নার্সিং পেশার মানোন্নয়ন এবং শূন্য পদ পূরণে কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেন। এখন তার বাস্তবায়ন হচ্ছে। সিনিয়র স্টাফ নার্সদের এন্ট্রি পয়েন্টে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১৯১৮ জন নার্সকে । প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আরও ৪১২৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়েছে। এরপর থেকে পিএসসির মাধ্যমে সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ দেয়া হবে।
তবে সিন্ডিকেট কিংবা উেকাচের বিষয়টি অস্বীকার করলেন সেবা পরিদফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তাসলিমা বেগম। তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের সঙ্গে নিয়োগ কমিটির কোন ধরনের যোগাযোগ নেই। তাদের তিনি চেনেনও না। নার্সদের স্ব স্ব জেলা কিংবা শূন্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হবে। ঘুষ দিয়ে এখানে কোন ধরনের কাজ করা সম্ভব হবে না।
