সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই :আইনমন্ত্রী

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:৩১
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংবিধান সংশোধনের কোনো প্রয়োজন নেই এবং এজন্য নবম সংসদের শেষ অধিবেশনে কোনো প্রস্তাবও উত্থাপন করা হবে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। এছাড়াও সরকারের মেয়াদ পূর্তির ৯০ দিনের আগে নাকি পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের জাতীয় সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সংসদ সদস্য ও ন্যাপ নেত্রী আমেনা আহম্মেদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং শান্তি পরিষদের উপদেষ্টা ড. সারওয়ার আলী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শান্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী এম এ আকাশ। শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সম্পাদক মন্ডলির সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, আন্তর্জাতিক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য তারেক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক , তাই এই ব্যবস্থা কোন অবস্থায় রাষ্ট্রে থাকতে পারে না। সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব নিজে এসে, দূতের মাধ্যমে এবং পরিশেষে টেলিফোন করে নির্বাচনের বিষয়ে বলেছেন। একটি দেশের নিজস্ব সংবিধান রয়েছে। সংবিধানে কিভাবে নির্বাচন হবে সে ব্যাপারে বলা আছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শক্তিকে ৭১’র ন্যায় পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সভ্যতার অনেক অগ্রগতি হলেও বিশ্বে বিপজ্জনক অবস্থা বিরাজ করছে। একাত্তরে আমরা উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। এই শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে পুনরায় যুদ্ধ করতে হবে। রাশেদ খান মেনন বলেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের আগেই প্রেসিডেন্ট ওবামা সে দেশে যুদ্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে সিরিয়ায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষতা কি তা জেনেও এক শ্রেণীর জ্ঞানপাপী এটাকে ধর্মহীনতা অ্যাখ্যা দেয়। সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান পল্টু। ড. সারওয়ার আলী বলেন, ১৯৭১ সালের মে মাসে শান্তি পরিষদ প্রথম এদেশে গণহত্যা বন্ধের দাবি তোলে। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের সাহায্য করে। যদি না করতো তবে নয় মাসে দেশ স্বাধীন হতো কিনা সন্দেহ ছিল। সামপ্র্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে, সকলের সমান অধিকারের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হয়। আজ আবারও দেশে সেই সামপ্রদায়িক শক্তি নতুন রূপে অশান্তি সৃষ্টি করছে, নারীদের জীবনযাপন নির্ধারণ করছে। উল্লেখ্য, নবম জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশন বসার কথা রয়েছে ১২ সেপ্টেম্বর। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ ৯০ দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এই হিসেবে চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। ২০১১ সালে উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার পর সংবিধানে এই সংশোধনী আনা হয়।