এইচআরডব্লিউকে কারণ দর্শানোর নোটিস

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:১৩
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে মানবাধিকার সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ, এশীয় অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস ও অ্যাসোসিয়েট স্টর্ম টিভকে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগের মামলার রায় দেয়া হয় গত ১৫ জুলাই। রায়ে গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরপর গত ১৬ আগস্ট এইচআরডব্লিউ তাদের ওয়েব সাইটে ‘বাংলাদেশ:আযম কনভিকশন বেইজড অন ফ্লড প্রসিডিংস’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে- এ বিচারকে গভীর ত্রুটিপূর্ণ ও পক্ষপাতমূলক বলে দাবি করে। তারা বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে মোট পাঁচটি পর্যবেক্ষণ তথা প্রশ্ন উত্থাপন করে। পর্যবেক্ষণে তারা বলে, বিচারকরা অযথার্থভাবে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে একটি তদন্ত করে গোলাম আযমকে শাস্তি দিয়েছে। আইনজীবী-বিচারকদের মধ্যে গোপন সহযোগিতা ও পক্ষপাতিত্ব ছিল বলেও দাবি করা হয় পর্যবেক্ষণে। এই বিবৃতির মাধ্যমে এইচআরডব্লিউ আদালত অবমাননা করেছে দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে গত ২০ আগস্ট একটি আবেদন দায়ের করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। গত ২২ আগস্ট এ আবেদনের উপর রাষ্ট্রপক্ষের চারজন কৌঁসুলি শুনানি করেন। শুনানি শেষে গতকাল সোমবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, এইচআরডব্লিউ তাদের ওয়েবসাইটে গোলাম আযমের রায় নিয়ে যেসব প্রশ্ন তুলেছে তা অনৈতিক। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত এই সংস্থাটির কোন সদস্য বা পর্যবেক্ষক স্বশরীরে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হননি। এছাড়া তাদের বিবৃতি দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাইব্যুনাল ও বিচারকদের মর্যাদাহানি করেছে। তাই তাদেরকে শো-কজ করা হলো। এসব বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারকে সার্বিক বিষয় তদারকি করতে বলা হয়েছে। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনাল এইচআরডব্লিউ’র বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর যে নোটিস জারি করেছে তা সারা বিশ্বে এক নতুন নজির হয়ে থাকবে। একটি দেশের বিচার ব্যবস্থাকে কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা অসম্মান করলে তাকেও যে জবাবদিহি করতে হয়, তা প্রমাণ হলো।