জনরোষ ও দলীয় কোন্দলেই প্রাণ গেল সেলিমের

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:১৩
ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফুরকান উদ্দিন মৃধা ওরফে সেলিম এলাকায় পরিচিত ছিলেন ‘পাহাড়ি সেলিম’ হিসেবে। ধোবাউড়ার অনেকের কাছেই তিনি ছিলেন আতংক। অনেকের মতে, দীর্ঘদিনের সঞ্চিত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ ও দলীয় কোন্দলের জের হিসেবেই রবিবারের সংঘর্ষ ঘটে। চেয়ারম্যান সেলিম ও তার ভাই মজনুর বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রের একাধিক মামলা রয়েছে। কলসিন্দুর থেকে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গামারীতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক খানের নেতৃত্বে কয়েক হাজার মানুষ কেন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ‘পাহাড়ি সেলিম’-এর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হলো কেন, কেনই বা চেয়ারম্যানের এমন পরিণতি হলো? এ প্রশ্নের জবাবে এলাকার সাধারণ মানুষ বলেছেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর সেলিম ও তার ভাইয়েরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। প্রশাসন থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাকর্মীরাও জিম্মি হয়ে পড়েন। অনেকেই তাদের নির্যাতনের শিকার হন। গত ৪ বছরে নির্যাতিতরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করা তো দূরের কথা, ‘টু’ শব্দটুকু পর্যন্ত করতে সাহস পায়নি। এমনকি সাংবাদিককে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডার বাহিনী। ২০১০ সালে ২২ এপ্রিল চেয়ারম্যানের বাসা থেকে তার ভাই মজনু মৃধাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র্যাব। কিছুদিন পর মজনু মৃধা জামিনে মুক্তি পেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বেড়ে যায়। সেলিমের হাত ধরেই আজিজুলের উত্থান স্থানীয় সূত্র জানায়, পাহাড়ি সেলিমের আনুকূল্যেই তার বর্তমান প্রতিপক্ষ আজিজুল হক খান ২০১২ সালের ১০ মার্চ গামারীতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি লাভ করেন। রবিবারের সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্বদানকারী আজিজুল হক খান গামারীতলা ইউনিয়নের রনসিংহপুর গ্রামের আবদুর রহমান খানের পুত্র। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার পর থেকে আজিজুল হক খান চেয়ারম্যান সেলিমের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান। সর্বশেষ ধোবাউড়া উপজেলার আনন্দ স্কুলের ৩৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ ও চেক নিয়ে ঊভয়ের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। আনন্দ স্কুলের শিক্ষকরা গত শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন-এর কাছে গিয়ে সেলিমের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করেছিলেন।