হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান। তিনি জানান, গত ৫ মে হেফাজতের সমাবেশকে ঘিরে তাণ্ডব চালানো হয়। সেই ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি হিসেবেই মুফতি ওয়াক্কাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মুফতি ওয়াক্কাস বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা। তার দল জমিয়তে ওলামা ইসলাম। মুফতি ওয়াক্কাস এইচ এম এরশাদের সরকারে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি সংসদ সদস্যও ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় রাজধানীর তিন থানায় ১৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলা তিনটি। এসব মামলায় প্রায় ৪৯৫ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও আসামি করা হয়েছে অর্ধলাখ ব্যক্তিকে। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা এই মামলার আসামি।
গ্রেফতারের নিন্দা ও মুক্তি দাবি
গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর হেফাজতের নেতৃবৃন্দ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, মুফতি ওয়াক্কাসসহ সারাদেশে গ্রেফতারকৃত আলেম ও উলামাদের মুক্তি না দিলে হেফাজত কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী ও মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি করেছেন।
আন্তর্জাতিক ওলামা সংস্থা নদওয়াতুল ওলামা আল-আলামিয়্যাহ-এর চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়্যেদ রফিকুল ইসলাম মাদানী এক বিবৃতিতে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে গুম, হত্যা, মানবাধিকার হরণ, হামলা, মামলা ও গ্রেফতারই যেন এখন সরকারের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়ের্েছ।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের নিন্দা
১৮ দলীয় জোট নেতা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মুফতী মো. ওয়াক্কাসকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রতিহিংসা হচ্ছে বর্তমান সরকারের শাসনের মূল বৈশিষ্ট্য। বিরোধী মত এবং চিন্তাকে নৃশংস কায়দায় এই সরকার গত পাঁচ বছর ধরে দমন করে এসেছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন অবিলম্বে মুফতী মো. ওয়াক্কাসের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজেদের সংযত করুন, জনগণের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিন অন্যথায় জনগণের ক্রোধ থেকে রহাই পাবেন না।
