দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে চ্যানেলের ডুবোচরে সোমবার রাতে আবার ফেরি আটকে পড়ার পর থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি পারাপার বন্ধ রয়েছে। ফলে উভয় ঘাটে কয়েকশ’ যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে।
বিআইডব্লি¬উটিসি, বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ ফেরি দৌলতদিয়া চ্যানেলে প্রবেশ করতে গিয়ে ডুবোচরে আটকা পড়ে। পরে মাওয়া থেকে আনা টাগবোট-৩৯৪-এর সহায়তায় প্রায় নয় ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে উদ্ধার হয়। চ্যানেলের মুখ বন্ধ থাকায় ফেরি চলাচল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত বন্ধ থাকতে দেখা যায়। এছাড়া সকালে পাটুরিয়া থেকে দুইদফা একটি কে-টাইপ ফেরি চ্যানেলে প্রবেশ করতে না পেরে পাটুরিয়া ঘাটে ফিরে যায়।
মঙ্গলবার ঘাট পরিদর্শনকালে জানা যায়, ভোররাতে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি এ্যাম্বুলেন্স করে ঢাকায় রোগী নেয়ার জন্য দৌলতদিয়ায় পৌঁছলে ফেরি বন্ধ থাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর সকাল নয়টার দিকে ওই রোগী মারা যায়। এছাড়া ফেরি পার হতে না পেরে উভয় ঘাটেই ছয় শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও ছোট গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় আটকে থাকতে দেখা যায়। আটকে থাকা অনেক কাঁচামালের গাড়ির সবজি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যাত্রী ও চালক দুর্ভোগের কবলে।
বিআইডব্লি¬উটিসি আরিচার এজিএম (মেরিন) আব্দুল কুদ্দুস জানান, চ্যানেলে তীব্র স্রোতে বালু পড়ে পানির গভীরতা ও চ্যানেলের প্রস্থ কমায় ফেরিগুলো চলতে পারছে না। যে কারণে সোমবার রাতে ধারণ ক্ষমতার এক তৃতীয়াংশ গাড়ি নিয়েও ফেরি আটকা পড়ে। বিআইডব্লি¬উটিএ খনন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল হাসান বলেন, ড্রেজার প্রস্তুত রেখেও স্রোতের কারণে বসাতে পারছি না। নারায়ণগঞ্জ থেকে টাগজাহাজ ‘দুর্বার’ আনা হয়েছে। বিকেলের মধ্যে জাহাজটি দুইদফা আসা-যাওয়া করতে পারলে ফেরি চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে।
