সোনালী ব্যাংক রমনা কর্পোরেট শাখা

১৬ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা জালিয়াতি

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০৯
সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখা থেকে বিগত জোট সরকারের আমলে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি হয়েছে। এই টাকার মধ্যে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের কাছে দেয়া ব্যাংকের তত্কালীন ডিজিএম আলতাফ হোসেন হাওলাদারের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দুদক কর্মকর্তারা মহাজালিয়াতির এ তথ্য পান। এদিকে হলমার্কের ঋণ কেলেঙ্কারি প্রকাশের পর বাংলাদেশ ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় অডিট করে দুর্নীতির এই চিত্র দেখে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখায় মেসার্স ফেয়ার উইভিং মিলসের প্রায় দেড়শ কোটি টাকা আত্মসাত্ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আরো ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মোট ১৬ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা দুর্নীতির তথ্য পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে ক্যাশ এলসি ৬ হাজার ৯৯৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা, বিটিবি এলসি ৫ হাজার ৩৬৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, আইবিপি ২ হাজার ৫১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং প্যাকিং ক্রেডিট ৫৯০ কোটি টাকার জালিয়াতি হয়েছে বলে দুদক প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, হলমার্ক কেলেঙ্কারির পূর্বেই এই ঋণ কেলেঙ্কারি সংগঠিত হয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সালের (বিএনপি জোট সরকারের তিন বছর সময়ের) মধ্যে ভুয়া রেকর্ডপত্রের ভিত্তিতে সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট বৈদেশিক বাণিজ্য বিনিময় শাখা থেকে এলসি খুলে এই অর্থ লোপাট করা হয়েছে। জালিয়াতি করা অর্থের মধ্যে ফান্ডেড এবং নন-ফান্ডেড হিসাবের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এই জালিয়াতিতে বিগত জোট সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়া দুদকের কাছে দেয়া ব্যাংকের তত্কালীন ডিজিএম আলতাফ হোসেন হাওলাদারের লিখিত বক্তব্যেও এসব তথ্য স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, তত্কালীন সরকার দলীয় এমপি-মন্ত্রীদের প্রতিষ্ঠানের নামে চারটি খাতে ভুয়া এলসির মাধ্যমে জাল-জালিয়াতি করে ব্যাংকের তত্কালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিনুর রহমান, ডিজিএম আলতাফ হোসেন হাওলাদার, জিএম, এজিএম, এসপিও, পিওসহ ব্যাংকের প্রায় ২০ কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এ সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশই ভুয়া বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এলসি খুলে মাল না এনেও আরো এলসি খোলা হয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখা থেকে ১৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি ব্যাংকের ওই শাখার তত্কালীন এজিএম মো. মিরন মিয়া বাদি হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর ৭) দায়ের করেন। ওই মামলায় ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল সময়ে ১৫৬ কোটি টাকা জালিয়াতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। মামলাটি মানিলন্ডারিং আইনের অধীনে হওয়ায় শাহবাগ থানা থেকে তা দুদকে হস্তান্তর করা হয়। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে দুদকের উপ-পরিচালক হারুনূর রশীদকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই মামলায় আসামিরা হলেন ব্যাংকের তত্কালীন ডিজিএম আলতাফ হোসেন হওলাদার, মেসার্স ফেয়ার উইভিং মিলসের এমডি মির্জা আবুল কাশেম এবং চেয়ারম্যান রাবেয়া আহমেদ। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস দিলে মামলার আসামি এবং ব্যাংকের তত্কালীন ডিজিএম আলতাফ হোসেন হওলাদার দুদকে একটি লিখিত বক্তব্য জমা দেন। ওই বক্তব্যের তথ্য যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে এইসব মহাজালিয়াতির নথিপত্র পায় দুদক।