ওপারে ৩৫ কারখানা, অবাধে দেশে ঢুকছে ফেনসিডিল

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:১০
দিনাজপুরের হাকিমপুর-হিলি সীমান্তবর্তী ভারতীয় এলাকায় ৩৫টি কারখানায় বাংলাদেশের জন্য তৈরি হয় মরণ নেশা ফেন্সিডিল (কফ সিরাপ)। এসব কারখানা সীমান্ত থেকে মাত্র ৫-৮ কি. মি.-এর মধ্যে অবস্থিত। এ কারণে ওই সীমান্ত দিয়ে ফেন্সিডিল চোরাচালান ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে স্থাপন করা এসব কারখানায় তৈরি ফেন্সিডিল সংঘবদ্ধ আন্তঃসীমান্ত সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে দেশে পাচার হচ্ছে বলে সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্র আরো জানায়, সীমান্তের ওপারে কুটির শিল্প হিসেবে কয়েক হাজার মাদক কারখানা গড়ে উঠেছে। এগুলোর সঙ্গে ২৫ হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিক জড়িত। কারখানাগুলোতে কোন রকমের মান বজায় না রেখে এলকোহল মিশিয়ে নকল ফেন্সিডিল উত্পাদন হচ্ছে। এই নকল ফেন্সিডিল ‘এবোট’ কোম্পানির লেবেল লাগিয়ে চোরাকারবারীরা ভারত থেকে প্রতি বোতল ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কিনে বাংলাদেশে বিক্রি করছে ২২০ থেকে ৩০০ টাকায়। এ জন্য দিনাজপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক চোরাকারবারীদের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ফলে ক্রমেই বিপদাপন্ন হচ্ছে দেশের হাজার হাজার তরুণের জীবন। প্রসঙ্গত, এক সময় ফেন্সিডিল বাংলাদেশে কফ সিরাপ হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হতো। এক পর্যায়ে এটি মাদক হিসাবে ব্যবহার শুরু হয়। এ কারণে আশির দশকে জাতীয় ওষুধ নীতিতে এটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তখন থেকেই ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ীরা ফেন্সিডিল উত্পাদন ও এ দেশে পাচার করা শুরু করে।