বিএনপি বলেছে, এতোদিন সংলাপ ও সমঝোতার যে আশা ছিল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সেই সম্ভাবনার পথ একেবারে রুদ্ধ হয়ে গেছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আমরা মানব না, মানছি না এটাই আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব বিষয় উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে যাবে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার নীল নকশা করছে। তবে জনগণের প্রতিরোধের মুখে তা সফল হবে না।
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ চিন্তিত। চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে যে নীলনকশা করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তা স্পষ্ট হয়েছে। সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সারা দেশের মানুষকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে একতরফা নির্বাচন করতে চায়। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকে দূরে ঠেলে দিয়ে সরকার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার চেষ্টা করছে। সরকার শুধু নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র নয়, তারা একদলীয় গণতন্ত্র কায়েম করছে। তিনি বলেন, সরকারের চাপিয়ে দেয়া ব্যবস্থা ১৮ দলীয় জোট মেনে নেবে না। আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই। সরকার জনগণের সঙ্গে লুকোচুরি করছে, তারা সংবিধানে অস্পষ্টতা রেখে দিয়েছে। একটি সংসদ বহাল রেখে আরেকটি সংসদ নির্বাচন করার নজির বিশ্বের কোথাও নেই।
ফখরুল বলেন, আন্দোলন চলছে, আরো আন্দোলন হবে। সরকার একতরফা নির্বাচন করতে চাইলে জনগণ মেনে নেবে না বরং প্রতিরোধ করবে। আমরা আমাদের নিজস্ব কৌশলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, চূড়ান্ত আন্দোলনে হবে।
মানবতা বিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা সম্পূর্ণ মানবাধিকার বিরোধী। কারণ বিষয়গুলো এখনো পুরোপুরিভাবে মীমাংসিত হয়নি। আপিল বিভাগে মামলাগুলো এখন বিচারাধীন। সুতরাং এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া আইনের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
হেফাজতে ইসলাম নেতা মুফতি ওয়াক্কাসের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, তাকে যে অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জামায়াতে ইসলামের কর্মপরিষদ সদস্য ড. রেদওয়ান উল্লাহ শাহিদী, এলডিপির মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদ, এনপিপির মহাসচিব ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মুসলীম লীগের আতিকুল ইসলাম, ন্যাপ ভাসানীর গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, ইসলামিক পার্টির আলমগীর মজুমদার প্রমুখ।
এদিকে এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মেয়াদের শেষ তিন মাস না মেয়াদের পরের তিন মাসে নির্বাচন তা এখন মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না মেনে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তাতে কাজ হবে না।
এদিকে গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে তারেক রহমানের ৬ষ্ঠ কারামুক্তি দিবসে ‘বাংলাদেশের অহংকার তারেক রহমান’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর ঐ বক্তব্য মানছি না, মানছি না, মানছি না। জনগণও মেনে নেবে না, প্রতিরোধ করবে। মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে চায়, কারণ তারা জেনে গেছে আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজ উদ্দীন আহমেদ, ড. খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান, ড. মাহবুব উল্লাহ প্রমুখ।
