শ্যামনগরে বাঘ বিধবাদের মানবেতর জীবনযাপন

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৬
সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে অবস্থিত সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার শেষ সীমানায় গাবুরা ইউনিয়নের মধ্যে ৯ নং সোরা গ্রামে বাস করে হাজার খানেক মত্স্যজীবী। দিন আনা দিন খাওয়া এসব মানুষ প্রায় সবাই বাস করে সরকারি খাস জমিতে। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা বাস করে মাটির ঘরে। আর জীবিকা নির্বাহ করে নদীনালায় মাছ ধরে। মাছ ধরতে গিয়ে অনেকেই আর ফিরে আসে না। বাঘের থাবায় প্রাণ হারায় তারা। কিন্তু তারপরও যেতে হয় মাছ ধরতে। তাদের স্ত্রীদের কপালে জোটে অকাল বৈধব্য। গাবুরা ইউনিয়নে আছে ৫ শতাধিকেরও বেশি বাঘে খাওয়া স্বামীহারা বিধবা। তাদের মধ্যে একজন নূরনাহার। নুরনাহার ও আরও কিছু বিধবার দুঃখের কথা উল্লেখযোগ্য। নূরনাহারের স্বামীকে বাঘে খাওয়া দেখতে দেখতে কেটে গেল কয়েক বছর। ছিপছিপে গড়নের মাত্র ২২ বছরের নূরনাহারের কোলে ২’টি সন্তান। চোখে সে সরিষার ফুল দেখে। কী করে তার বাকি জীবন কাটবে। অলুক্ষণে বউ হিসেবে তার কপালে অপবাদ জোটে। শুরু হয় গঞ্জনা। অসহায় জীবন কাটছে তার। তাই নিজে বেছে নেয় জীবন সংগ্রামের পথ। রাস্তায় মাটি কাটা ,নদীতে জাল টেনে কোন রকম তিন জনের দু’বেলা আধা পেটা খাবার জোটে। হাসি কান্না আনন্দ বেদনা উল্লাস নূরনাহার হারিয়ে ফেলেছে। কান্না তার মোটেই আসে না। নেই কোন বোধশক্তি। বিধবা নূরনাহারের মতই বাঘে খাওয়া স্বামী হারানো বধূরা একই ধরনের বোধহীনতার মধ্যে জীবন্মৃত অবস্থায় আছে। আরেকটি বাঘে খাওয়া স্বামী হারানো ৯ নং সোরা গ্রাম। এই গ্রামে প্রায় ২ শত লোককে বাঘে খেয়েছে।