বিচারকরা নিজেরাই নিজেদের এপিটাফ লিখে যান

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৬
‘বিচারকরা নিজেরাই নিজেদের এপিটাফ লিখে যান। সেই এপিটাফ হচ্ছে একটি ভালো রায়। আর এই ভালো ও সুন্দর রায় লেখার জন্যই বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেনকে সকলেই স্মরণ করবে। গতকাল বুধবার সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন স্মরণে আয়োজিত সভায় তাকে এভাবেই মূল্যায়ন করলেন আরেক সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আমরা অনেকেই রায় লিখেছি। এখনো লিখে চলেছি। কিন্তু বিচারপতি কামালউদ্দিনের লেখা রায়ে বিশেষত্ব ছিলো যে, তিনি অত্যন্ত গঠনমূলক ও সংক্ষিপ্ত রায় লিখতেন। কখনো লম্বা রায় লিখতেন না। একবার পাঠ করে তার রায়ের মমার্থ উদ্ধার করা যায়নি। এজন্যই তার রায় বারবার পড়তে হত। আইন কমিশন আয়োজিত এই স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এসকে সিনহা, আইন কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আব্দুর রশিদ, কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এম শাহ আলম প্রমুখ। বিচারপতি মোস্তফা কামাল বলেন, বিচারপতি কামালউদ্দিন প্রশান্ত মনের অধিকারী ছিলেন। কখনো উচ্চৈস্বরে কথা বলতেন না। অতি নির্লিপ্ত না হয়েও জীবনকে সামগ্রিকভাবে বোঝার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছিলো তার। শুধু একজন বিচারপতি বা আইনজীবী পরিচয়ের মাঝে তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন না, এই পরিচয়কে ছাপিয়ে তিনি একজন পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। লেখাপড়ার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি মনোজগেক বিস্তৃত করেছেন ক্রমান্বয়ে। তিনি বলেন, বিচারপতি কামালউদ্দিন চার বছর প্রধান বিচারপতি ছিলেন। দেশকে তিনি অনেক কিছুই দিয়ে গেছেন। তার আদর্শ আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বিচারাঙ্গণে তিনি উজ্জ্বল বাতিঘর। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি ছিলো তার অবিচল আস্থা। ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও মুক্ত চিন্তার আধুনিক মানুষ। তার জীবন ও কর্ম থেকে শেখার অনেক কিছুই রয়েছে। বিচারপতি এসকে সিনহা বলেন, বিচারপতি কামাল উদ্দিনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ রায় রয়েছে। রায় লিখতেন সংক্ষিপ্তাকারে। তার রায়গুলো সকলের পড়া উচিত। বিচারপতি আব্দুর রশিদ বলেন, একজন ভালো মানুষ ও মুক্ত মনের অধিকারী ছিলেন। তার এই শূন্যতা পূরণ হতে অনেক সময় লাগবে। বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেন, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতেন বিচারপতি কামাল উদ্দিন। ২-১০ মিনিটের মধ্যে মামলার শুনানি গ্রহণ শেষ করতেন। প্রধান বিচারপতির পদ থেকে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে অবসর দেয়া হয় সামরিক সরকারের আমলে, যা আমাদের রাষ্ট্র ও দেশের জন্য লজ্জাস্কর। তিনি বলেন, তার সাহিত্যকর্ম ফেলে দেয়ার মত নয়। যুগে যুগে তার মত মানুষকে হয়ত আমরা পাব না। এরকম একজন আইনজ্ঞের মননশীলতা, ইতিহাস ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ দেখলে অবাক হতে হয়।