প্রবীণ আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন হয়তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে না। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হতে পারে। অথচ এই সরকারের সম্পূর্ণ রূপরেখা প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এখনও দেয়নি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কিছুটা বলা হয়েছে, কিন্তু বিএনপি একেবারেই বলেনি। দেশের মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। দুই দলকেই এটি মনে রাখতে হবে। আগামী নির্বাচন যেভাবেই হোক না কেন তা সুষ্ঠু হতেই হবে, কেননা টেলিভিশনের ক্যামেরা নির্বাচনে থাকবে। টিভির এ যুগে মনে হয় না, জনগণের ভোটের রায় উল্টে দেয়ার সুযোগ আছে।
গতকাল বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে ‘তারেক রহমান তৃণমূল রাজনীতির প্রবক্তা’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক বলেন, দেশে এখন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে এগুচ্ছে তাতে যে কোনো সময় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। চলতি সংসদের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বাধ্যবাধকতা নির্বাচন কমিশনের উপর কিছুদিন পরই বর্তাবে। নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য অবশ্যই সরকারকে চাপ দিতে হবে। সময় খুবই কম। তাই তত্ত্বাবধায়ক না হলেও ভিতরে ভিতরে নির্বাচনের জন্যও বিএনপিকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
খ্যাতনামা এ আইনজীবী অনুষ্ঠানে আগত ছাত্র-তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, মারামারি-পেটানো ভদ্রসমাজের কাজ নয়। কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে প্রায়ই ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের এ ধরনের কাজে লিপ্ত হতে দেখি। এতে দু:খ লাগে। এ সংস্কৃতি দূর করুন। দলের জন্য কাজ করুন। ভালো কাজ করুন, যাতে মানুষ আপনাদের ভালোবাসে। আপনাদেরকে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। আওয়ামী লীগকে গালাগাল দেবেন না বা টানাটানি করবেন না।
সাত-আট দিন আগে তারেকের সাথে তার সাক্ষাত্ হয়েছে জানিয়ে রফিক-উল-হক বলেন, নির্বাচন নিয়ে সংকট তৈরি হলে তারেক রহমান নির্বাচনের আগেই দেশে ফিরে আসতে পারেন। তারেক নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে দেশে আসলেও এয়ারপোর্টে ২০ লাখ লোক জড়ো হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রফিক-উল হক বলেন, তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তিনি তৃণমূলকে গুরুত্ব দেন। তিনি বিশ্বাস করেন তৃণমূল থেকে রাজনৈতিক কাজ শুরু করতে হবে। তৃণমূল থেকে না উঠে আসলে প্রকৃত নেতা হওয়া যায় না। এর জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। রাজনীতি করতেও শিক্ষা দরকার হয়।
উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের আহবায়ক শফিউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ।
